ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ৪:৩৩ অপরাহ্ন

মোহনপুরে সংঘর্ষ: নিহত মুয়াজ্জিনের দাফন সম্পন্ন, মামলা দায়ের

  • আপডেট: Sunday, March 8, 2026 - 10:22 pm

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়া গ্রামে সংঘর্ষে নিহত স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন আলাউদ্দিনের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাঁকোয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সংগঠনের নায়েবে আমির ও গোদাগাড়ী-তানোর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবর রহমান। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবর রহমান, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পবা-মোহনপুর আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী জেলা শাখার শুরা কর্ম পরিষদ সদস্য ও বেলঘরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মাওলানা এফ এম ইসমাইল আলম আল হাসানি, কেন্দ্রীয় শুরা পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা শাখার নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল খালেক, জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মোহনপুর উপজেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আওয়াল এবং নায়েবে আমির ভাইস প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন তার স্ত্রী, ছয় ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানাজার আগে সাঁকোয়া মোড়ে ‘শহিদ আলাউদ্দিন চত্বর’ নির্মাণের ঘোষণাও দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় সাঁকোয়া গ্রামের ঈদগাহে ঈদের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বৈঠকের সময় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় আলাউদ্দিন তার দুই ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমরান নাজির মোহনপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অর্ধশতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে মুয়াজ্জিন আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে, বিএনপি নেতা রাইসুল ইসলাম রাসেলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। পরে তার বাড়িসহ সহযোগী ইসমাইল ও করিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে সাঁকোয়া মোড়ে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মুয়াজ্জিন আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হবে।