সোনামসজিদে ৩ দিন পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার, আটকা ৪’শ ৫০ ট্রাক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: তিনদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মচারীরা। ফলে আটকে পড়া ভারত থেকে পণ্যভর্তি ট্রাক আসা এবং লোড-আনলোড শুরু হয়।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন জানান, গতকাল বিকালে সংকট নিরসনে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের কার্যালয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী, আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত। এতে বন্দরের ভেতরে জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় ভারত থেকে নতুন করে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারেনি। এতে লোড-আনলোড না হওয়ায় বন্দরে আটকা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ ট্রাক। আটকে পড়া ট্রাকের মধ্যে ৪০০টিই পাথরবাহী। বাকি ট্রাকগুলোতে রয়েছে নারিকেল, ভুসি, শুঁটকিসহ অন্যান্য পণ্য। বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরে জায়গা না থাকায় নতুন করে ভারত থেকে ট্রাক নেয়া সম্ভব হয়নি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তারা বিনা কারণে কর্মচারীদের কার্ড আটকে রাখা, ফাইল জমা দেয়ার পর নানা জটিলতা তৈরি এবং নতুন নতুন নিয়মের কথা বলে হয়রানি করছেন। বিশেষ করে কাস্টমস সুপার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অশোভন আচরণ এবং পণ্য খালাসে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন তারা। এসব হয়রানি বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, ফাইল আটকে রাখা বা কাউকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে হয়রানির অভিযোগের সত্যতা নেই। আলোচনার জন্য আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেননি।











