ঢাকা | নভেম্বর ২, ২০২৬ - ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে নির্মাণাধীন ভবনে ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩

  • আপডেট: Sunday, November 1, 2026 - 10:34 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের থাকার কক্ষ থেকে ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি ট্রাকে করে গাঁজার চালানটি সেখানে আনা হয়েছিল এবং এর একাংশ ইতিমধ্যে বিক্রিও করা হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপশহর ২ নম্বর সেক্টরে ‘সরকার বিল্ডার্সের’ একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের থাকার টিনশেড কক্ষে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—পবা থানার বাগধানী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সহির ইসলাম (২৪), গোদাগাড়ী থানার পালপুর ধরমপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রায়হান (২০) এবং তানোর থানার চান্দুড়িয়া গ্রামের হারুনুর অর রশিদের ছেলে রায়হান। শেষে উক্ত ব্যক্তি সরকার বিল্ডার্সের সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।

বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সামা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপশহর ২ নম্বর সেক্টরের ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শ্রমিকদের থাকার একটি টিনশেড কক্ষে তল্লাশি চালাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা প্রথমে ঘরের তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি বস্তায় থাকা ১২টি প্যাকেট থেকে মোট ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্রাকে করে গাঁজার বড় চালানটি সেখানে আনা হয়েছিল। ওই চালানে মোট তিনটি বস্তা ছিল, যার মধ্যে একটি বস্তার গাঁজা আগেই বিক্রি করা হয়েছে। বাকি দুই বস্তার গাঁজাও অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তারি বলেন, “এ ঘটনায় তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, সাইট ইঞ্জিনিয়ারকে থানায় নেওয়ার সময় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানোর বিষয়টি জানাজানি হলেও এই মাদক চালানের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুরো ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, নির্মাণাধীন ভবনটি কীভাবে মাদক সংরক্ষণ ও সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং চালানটির মূল উৎস ও গন্তব্য কোথায়—পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।