ঢাকা | নভেম্বর ১, ২০২৬ - ১:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চলতি বছরের শেষ দিকে রাজশাহী মেডিকেলের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

  • আপডেট: Saturday, October 31, 2026 - 11:59 pm

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি ২০২৬ সালের শেষ দিকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামোগত সম্প্রসারণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

গতকাল শনিবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে রামেক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও বিগত সরকার সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করেনি।

ফলে ৫৫০ শয্যার সুযোগ-সুবিধা দিয়েই এত দিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হয়েছে। বর্তমান সরকার ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যা ও ১০০টি আইসিইউ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে রামেকসহ দেশের সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং এ বছরের শেষ দিকেই রামেকে এই সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে।

একই সাথে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে তিনি জানান, রাজশাহীসহ সারাদেশে নির্মিত ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতালের জনবল নিয়োগের পদ সৃষ্টি শেষ হয়েছে এবং যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে একযোগে এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

রাজশাহী অঞ্চলে বিষধর সাপের প্রাদুর্ভাব ও চিকিৎসা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পদ্মা অববাহিকা হওয়ায় এ অঞ্চলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা অনেক সময় থাকে না। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এখানে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে ঠিকাদারের নিম্নমানের লিফট সরবরাহজনিত অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেন যে, এটি ২০২৩ সালের ঘটনা। সরবরাহ করা লিফটে ত্রুটি থাকায় তদন্ত শেষে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হকসহ রামেক হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।