বামুনশালিকের অনন্য ঠিকানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে ক্রমেই বিলুপ্তির পথে হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখি ‘বামুনশালিক’।
উপযুক্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের কারণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই এখন সারা বছর এই পাখিটির উপস্থিতি চোখে পড়ে।
অন্যান্য শালিক যেমন-ভাতশালিক, কাঠশালিক কিংবা গোশালিকের দেখা দেশের যেকোনো প্রান্তে সহজে মিললেও বামুনশালিক (শঙ্খশালিক নামেও পরিচিত) স্বভাবতই বেশ দুর্লভ। তবে রাজশাহী বিভাগের বৃক্ষবহুল অঞ্চল এবং বিশেষ করে রাবি ক্যাম্পাসে এদের বিচরণ অপেক্ষাকৃত বেশি।
আকারে প্রায় ২১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে অবিকল এক। প্রাপ্তবয়স্ক বামুনশালিকের মাথায় কালো ঝুঁটি, ধূসর পিঠ, পাটকিলে আভাযুক্ত গলা-লেজ এবং লেজের নিচে সাদা ছোপ থাকে। শক্ত ঠোঁটের গোড়ায় নীলচে, মাঝে সবুজাভ ও ডগায় হলুদ রঙের মিশ্রণ এদের অনন্য সৌন্দর্য দান করে। ওড়ার দ্রুত গতি এবং অন্য পাখির ডাক অনুকরণে এরা বেশ পারদর্শী।
সাধারণত দেয়ালের গর্ত, গাছের কোটর বা মানুষের টাঙানো মাটির হাঁড়িতে শুকনো পাতা ও ঘাস দিয়ে এরা বাসা তৈরি করে এবং ৩-৪টি নীলচে ডিম পাড়ে। প্রজননকালে (মার্চ থেকে জুলাই) এরা ফল ও কীটপতঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করে।
রাবির শহীদ মিনার, জুবেরি ভবন, সিলসিলা এলাকা, হেলিপ্যাড ও মেইন গেটসহ বিভিন্ন স্থানে বামুনশালিকের দেখা মেলে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী ফাহিম মুন্তাসির রাফিন জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরাজী ভবনের পেছনে তিনি প্রথম এই পাখির ছবি তোলেন।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ময়লা ফেলার স্থানগুলোর আশপাশে খাবারের সহজলভ্যতার কারণে এরা বেশি আসে। পাখিদের প্রজনন মৌসুমে ডিস্টার্ব না করা এবং বাচ্চা চুরি রোধে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুজ্জামান মো. সালেহ রেজা জানান, টিকিয়া থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, নিরাপত্তা ও উপযুক্ত আবহাওয়া পাওয়ায় রাবিকে তারা স্থায়ী আবাস বানিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন বা চট্টগ্রামের মতো নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের নিজস্ব পাখির মতো রাজশাহীর পরিবেশ বামুনশালিকের জন্য আদর্শ। আলাদা কোনো কৃত্রিম পদক্ষেপ নয়, কেবল তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান ও ঝোপঝাড় অক্ষত রাখলেই এদের রক্ষা করা সম্ভব।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











