১১ দলীয় জোটের লংমার্চে রাকসু ভিপির যোগদান নিয়ে বিতর্কের ঝড়
স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ঢাকা থেকে রংপুরমুখী লংমার্চে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা এই অংশগ্রহণকে ‘আদর্শিক বিচ্যুতি’ ও ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদ’ বলে আখ্যায়িত করলেও রাকসু ভিপি দাবি করেছেন, চলমান জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থাকার অংশ হিসেবেই ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এতে যোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, শনিবার সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ওই লংমার্চে অংশ নেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। পরবর্তীতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানান।
রাকসু ভিপির এমন রাজনৈতিক পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্যাম্পাসের বামপ্রন্থি ছাত্রনেতারা। রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল এ বিষয়ে বলেন, ওরাই একসময় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলে রাকসুর ভোট ম্যানুপুলেট করেছিল। এখন ওরাই মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন একটা দলীয় আনন্দ সফরে অংশ নিচ্ছে। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতায় রাকসুর ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের টাকায় জামায়াতের রাজনীতি হতে দেখা ছাড়া কিছুই পায়নি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে রাকসুর ওই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনারও আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, রাকসুর পদটির ঐতিহ্যবাহী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার বলেন, ‘রাকসুর ভিপি পদের একটি ঐতিহাসিক ও অসাম্প্রদায়িক মর্যাদা রয়েছে। তিনি ক্যাম্পাসের সার্বজনীন ও প্রগতিশীল ম্যান্ডেটের প্রতিনিধি। জনদুর্ভোগ নিরসনের অজুহাতে ইতিহাস-স্বীকৃত প্রতিক্রিয়াশীল ও ডানপন্থি জোটের লংমার্চে তার যোগ দেওয়াকে আমরা আদর্শিক বিচ্যুতি ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদ মনে করি।’
বিতর্কের জবাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, জাতীয় সংকটের সময়ে জনগণের পক্ষে থাকা ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘যে দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েই আমি এতে অংশ নিয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি এবং বিভিন্ন সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রতিবাদ করা একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব মনে করি।’











