১০ দিনে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা
সোনালী ডেস্ক: আগামী ১০ দিনে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বিশেষ করে রংপুর বিভাগের চার জেলা এবং সিলেট ও ময়মনসিংহের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এই বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাপ্তাহিক ধারণাগত পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো স্বল্পমেয়াদি বন্যার মুখে পড়তে পারে।
এ ছাড়া নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত ও বিভিন্ন বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী ১০ দিনে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ডালিয়া পয়েন্টে গত শুক্রবার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও, শনিবার বিকেল ৩টায় তা মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু ফসলের ক্ষেত ইতিমধ্যেই পানিতে ডুবে গেছে।
উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেটে গত কয়েক দিন ধরেই টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয় ও আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত চলায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সন্ধ্যা ৬টার বুলেটিনে জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত আরও অন্তত তিন দিন অব্যাহত থাকবে।
একই সাথে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











