ঢাকা | জুন ২১, ২০২৬ - ১১:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পোরশায় পটল পাতার বড়া বিক্রি করে স্বাবলম্বী শফিকুল

  • আপডেট: Sunday, June 21, 2026 - 10:44 pm

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: কোনো চটকদার বা দামী খাবার নয়, কেবল ব্যতিক্রমী ‘পটল পাতার বড়া’ বিক্রি করেই দীর্ঘ আট বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন শফিকুল ইসলাম। নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদরের নিতপুরে এই অভিনব খাবার বিক্রি করে তিনি এখন পুরোদমে স্বাবলম্বী। এই ব্যবসার আয় থেকেই কারো কাছে হাত না পেতে স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে-মেয়েসহ সাত সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন শফিকুল।

শফিকুলের জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে পোরশা উপজেলার নিতপুর মাস্টার পাড়ায় বসবাস করছেন। তিনি জানান, আট বছর আগে সামান্য পুঁজি নিয়ে উপজেলা গেটের পাশে ছোট একটি দোকানে পটল পাতার বড়া বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই খাবারটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও, চমৎকার স্বাদের কারণে অল্প দিনেই তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন প্রতিদিন বিকেল হলেই ভোজনরসিক ক্রেতারা তার দোকানে ভিড় জমান।

ব্যতিক্রমী এই খাবার তৈরির বিষয়ে শফিকুল বলেন, শুরুর দিকে পটল পাতা সংগ্রহ করে বড়া তৈরি করা সহজ ছিল না। পাতা সংগ্রহ থেকে শুরু করে মশলার সঠিক মিশ্রণ তৈরি—সব কাজই তাকে একা করতে হয়। অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ হলেও তিনি দমে যাননি। বর্তমানে প্রতিদিন তিনি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার বড়া বিক্রি করেন। এই আয় দিয়েই চলছে সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের যাবতীয় খরচ। মানুষের ভালোবাসাই তার এই কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দোকানে আসা নিয়মিত কয়েকজন ক্রেতা জানান, শফিকুলের হাতের তৈরি পটল পাতার বড়া অত্যন্ত মচমচে ও সুস্বাদু। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি এই বড়া দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মনে করেন, কোনো কাজই যে ছোট নয়, শফিকুল ইসলাম আট বছর ধরে সেটিই প্রমাণ করে চলেছেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে তিনি এই ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারিত করতে পারতেন। নিজের কর্মসংস্থান তৈরির এই অনন্য প্রচেষ্টা সমাজের বেকার যুবকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।