ঢাকা | মে ১৭, ২০২৬ - ১০:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে কৃষক পর্যায়ে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন

  • আপডেট: Sunday, May 17, 2026 - 10:15 pm

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ একজন প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন কৃষক। কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় কৃষি স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। কৃষক পর্যায়ে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতায় তিনি আউশ, আমন ও বোরো ধানের বেশ কিছু নতুন কৌলিক সারি উদ্ভাবন করেছেন।

তার উদ্ভাবিত এই ধানের সারিগুলোর জীবনকাল প্রচলিত জাতের তুলনায় কম। এগুলো উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধিযুক্ত ও খরাসহিষ্ণু। গাছের গঠন মজবুত হওয়ায় ঝড়-বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগ ও পোকার আক্রমণও তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া লাল ও কালো চালসহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

এই জাতগুলো খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে চাষের উপযোগী। দেশি জাতের উন্নয়ন ঘটিয়ে ধানের জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন এই কৃষক বিজ্ঞানী, যার ফলে চাষাবাদে পানির সাশ্রয় হয় এবং ফসল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব। খরা পীড়িত বরেন্দ্র অঞ্চলে কীভাবে কম পানি, কম সময় ও কম খরচে ধান কেটে ঘরে তোলা যায়—তা নিয়েই মূলত তার এই গবেষণা। নূর মোহাম্মদ কৃষিক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও তা বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। কৃষক পর্যায়ে ধানের নতুন নতুন সারি উদ্ভাবন করায় স্থানীয় কৃষকরা নিজ এলাকাতেই বিভিন্ন দেশি-বিদেশি উন্নত জাতের ধানের ফলন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে তারা নিজেদের পছন্দসই জাত চিহ্নিত করে বীজ সংগ্রহ করতে পারছেন, যা এলাকায় উফশী (উচ্চ ফলনশীল) জাতের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে।

খরাসহিষ্ণু এই সারিগুলোর জীবনকাল কম হওয়ায় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরুর আগেই ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব। আগাম ফলন আসায় সেচ খরচ কম লাগে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এ কারণে সারিগুলো বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা ফার্মের গবেষণা প্লটের ২টি জাত ও ২০০টি সারির মধ্য থেকে স্থানীয় জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে ‘নূর ধান-১’ আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তন করা হয়। নমুনা ফসল কর্তন, মাড়াই ও ঝাড়াই শেষে শুকনা ওজনে হেক্টরপ্রতি ৬ মেট্রিক টন (বিঘাপ্রতি প্রায় ২০ মণ) ফলন পাওয়া গেছে। চালের হিসাবে যা হেক্টরপ্রতি ৪ মেট্রিক টন।

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, এই ধানের পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১৯.১ সেন্টিমিটার, কুশির গড় সংখ্যা ১৪টি এবং ছড়ার গড় দৈর্ঘ্য ২৮.৪ সেন্টিমিটার। ১ হাজার পুষ্ট দানার ওজন ১৯.৮০ গ্রাম এবং এর জীবনকাল ১৫০ দিন। এর চাল লম্বা ও চিকন, যা দেখতে অবিকল জিরা চালের মতো এবং এর ভাত বেশ ঝরঝরে হয়। ধান কর্তন ও ফলন পরিমাপের সময় উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মদ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহাদাৎ হোসেন, পরিসংখ্যান অফিসার শরিফুল ইসলাম, ডিএফএম এমদাদুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আলী রেজা ও সোয়াইব এবং এলাকার সাধারণ কৃষকবৃন্দ।