ঢাকা | মে ১৪, ২০২৬ - ১:১৬ পূর্বাহ্ন

বাঘায় জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • আপডেট: Wednesday, May 13, 2026 - 11:12 pm

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিরামপুর এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী আব্দুল আলাম ও তার পরিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের চাহার উদ্দিনের বোন সখিনার দুই মেয়ে দুখিনি ও জায়দা পার্শ্ববর্তী আলাইপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের কাছে ১০ শতক ধানি জমি বিক্রি করেন। জমিটি দুটি ভিন্ন দাগে রেজিস্ট্রি হলেও আমজাদ হোসেন তার বাড়ির সংলগ্ন একটি দাগের জমিই ভোগদখল করে আসছিলেন।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে মৌখিকভাবে স্বীকৃত ছিল। তবে আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে বাবর আলী সরকার রাস্তার পাশের মূল্যবান ৫ শতক জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অন্তত আটবার সালিশ-বৈঠক হলেও আব্দুল আলমের পক্ষে রায় আসায় বাবর আলী দখল নিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতে মামলা চলাকালীন বাবর আলী তার প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় গত মঙ্গলবার হঠাৎ একতরফা সালিশ বসান। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি অমল খন্দকার, নবির খন্দকার, তুতুল খন্দকার, ইউপি সদস্য সিয়ার উদ্দিন ও শহিদুল মাস্টারের নেতৃত্বে ওই সালিশে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাবর আলীকে জমি দখলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তারা দলবল নিয়ে জমিতে খুঁটি পুঁতে দখল নিয়ে চলে যান। জমি হারিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন করেন আব্দুল আলম ও এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে আব্দুল আলাম অভিযোগ করেন, সালিশকারীরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে একতরফা রায় দিয়েছেন। আমার ভাগনিরা জমি বিক্রি করেছে ঠিকই, কিন্তু বাবর আলী সরকার এখন রাস্তার পাশের যে অংশটি দাবি করছেন, সেটি দিলে আমাদের ওয়ারিশদের দুটি বসতবাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে। আমরা তাকে পেছনের অংশ নিতে বললেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে সামনের অংশ দখল করেছেন। মানবন্ধনে উপস্থিত হাবাসপুর গ্রামের আনিছুর রহমান, হামিদুল ইসলাম ও হায়াতুল্লাহসহ স্থানীয়রা এই অন্যায্য দখলের তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না মিললে বড় ধরনের সংঘাত ঘটতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের রায় ও আইনগত প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে যারা জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক।