মামলা হলেও অধরা বিদেশিদের হেনস্তাকারী টিকটকার আকাশ
স্টাফ রিপোর্টার: নাটোরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তা করার ঘটনায় মামলা হলেও মূল অভিযুক্ত টিকটকার আকাশ (২৫) এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রুশ নাগরিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও অশ্লীল মন্তব্য করার ছয় দিন পার হলেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে দাবি করছে। তবে অভিযুক্ত আকাশ গ্রেপ্তার না হলেও তার ‘রাজকীয়’ জীবনযাপন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৮ মে নাটোরে ‘টিকটক বন্ধু মিলন মেলা’র আড়ালে রুশ নাগরিকদের হেনস্তা করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় লালপুর থানায় মামলা হলে পুলিশ আমিনুল ইসলাম নামে এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতা আকাশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী তিনি আত্মগোপনে আছেন। অথচ গতকাল বুধবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ একটি পুরনো মামলায় (আনসার সদস্যকে মারধর) তার হাজিরা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার অজুহাতে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেছেন। আদালত আগামী ১২ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
আকাশের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম আকাশ হলেও টিকটকে তিনি পরিচিত ‘আরিয়ান মাহমুদ আকাশ’ নামে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার জন্ম রাজশাহী নগরীর ভদ্রা লেকের পাশের বস্তিতে। বাবা সেলিম এখনো ভাঙারি কুড়িয়ে সংসার চালান এবং মা শরিফা বেগম গৃহকর্মীর কাজ করেন। তবে মা-বাবার অভাবের জীবন স্পর্শ করেনি আকাশকে। ফেসবুকে তার অনুসারী সংখ্যা ১৮ লাখেরও বেশি। সেখানে তিনি নিজের বিলাসী জীবনের নানা চিত্র তুলে ধরেন। সোয়া ৬ লাখ টাকার বাইক (জ১৫), কোটি টাকার ক্রাউন ক্রসওভার গাড়ি চালানো, দামি ম্যাকবুক, আইফোন এবং বিলাসবহুল হাতঘড়ির প্রদর্শনী করেন তিনি। পড়াশোনা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত হলেও ফেসবুকে নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আকাশের এই হঠাৎ ফুলেফেঁপে ওঠার পেছনে রয়েছে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা ও মাদক কারবার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় এক নেতার ছত্রছায়ায় তিনি জুয়ার বোর্ড চালাতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন তিনি যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা করেন এবং নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি তাকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। এর আগেও আরডিএ পার্কে এক আনসার সদস্যের নাক ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগে ২৫ দিন জেল খেটেছেন এই টিকটকার। এছাড়া এলাকায় ছিনতাই ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তার ঘটনায় মূল হোতা আকাশকে ধরতে রাজশাহী পুলিশের সহযোগিতায় কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদিকে অভিযুক্ত আকাশ আত্মগোপনে থেকে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি কেবল ‘মজা’ করার জন্য বিদেশিদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন চিহ্নিত অপরাধী কতদিন অধরা থাকবে।











