ঢাকা | অক্টোবর ১৫, ২০২৬ - ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নগরীতে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি

  • আপডেট: Wednesday, October 14, 2026 - 10:32 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে ছাত্রাবাসের বি-ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ ও মারামারির সূত্রপাত হয়।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহাবুর হোসেন জয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শাহাবুর হোসেন জয় রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মো. ফজলে রাব্বী ওহী ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তারা একই কক্ষের আবাসিক ছাত্র।

ভুক্তভোগী জানান, কক্ষে ওঠার পর থেকেই রাব্বীর সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন রাব্বীর এক বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় রাব্বী তার মাথায় আঘাত করেন এবং উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এর প্রায় ৩৫ মিনিট পর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কর্মী প্রীতম সেখানে গিয়ে কারণ জানতে চান এবং কোনো কথা না শুনেই তাকে মারধর শুরু করেন।

এ সময় আরও কয়েকজন যোগ দেওয়ায় তার নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে একই ব্লকের শিক্ষার্থী ইয়াজ উদ্দিনসহ অন্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে যান রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। অভিযোগ শেষে কলেজ শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত এবং দোষীদের ছাত্রাবাসের আসন বাতিলের দাবি জানান। অন্যদিকে, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম রুমমেটদের মধ্যকার ঝামেলায় ছাত্রদলের নাম জড়ানোকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থেই দোষী, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা নাসিরুল আজম জানান, দুই রুমমেটের মারামারির পর তৃতীয় পক্ষ এসে বিষয়টি ঘোলাটে করেছে। তবে কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি; তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলীও বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।