ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ - ১২:১২ পূর্বাহ্ন

সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছালে সর্পদংশনে মৃত্যু হবে না: সিভিল সার্জন

  • আপডেট: Sunday, September 20, 2026 - 10:32 pm

স্টাফ রিপোর্টার: সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে সর্পদংশনে শতভাগ প্রাণরক্ষা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম. রাজিউল করিম। তিনি বলেছেন, সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছালে সর্পদংশনের কারণে একটি মানুষেরও মৃত্যু হবে না। তবে চিকিৎসায় বিলম্ব হলে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে রোগীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রোববার সকালে আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত র‌্যালি-পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সিভিল সার্জন বলেন, সর্পদংশনের সব ঘটনা বিষধর সাপের না হলেও, দংশনের পর রোগীকে ঘরে বসিয়ে রাখা কিংবা কবিরাজ বা ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে সময় নষ্ট করা সম্পূর্ণ অনুচিত। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষধর সাপের দংশন নিশ্চিত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও বর্ষাপ্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দেশ হওয়ায় বর্ষা এবং বর্ষা-পরবর্তী মৌসুমে সর্পদংশনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে সাধারণত গোখরা, রাসেলস ভাইপার এবং ক্রেইট বা কালা সাপ—এই তিন প্রজাতির বিষধর সাপের কামড় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। তবে সর্পদংশনজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ সাপের বিষ নয়, বরং সামাজিক কুসংস্কার ও অবহেলা। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে এন্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ঘরের পাশের গর্ত, ফাটল কিংবা খড়ি ও লাকড়ির স্তূপে সাপ আশ্রয় নিতে পারে। তাই এসব স্থানে হাত দেওয়ার আগে আলো জ্বালাতে হবে এবং শব্দ করতে হবে। বর্ষাকালে রাতে চলাচল করার সময় বা মাছ ধরতে গেলে অবশ্যই আলো ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আলো জ্বেলে ও শব্দ করে ঢুকতে হবে এবং বিছানার নিচসহ চারপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় গরমের দিনে মাটিতে শোয়ার অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় তা পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরিতে প্রশাসন, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রাকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতারসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।