ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ - ১১:২৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে রাস্তার ধুলায় ভাজা হচ্ছে চিকেন চাপ, নজরদারির দাবি

  • আপডেট: Sunday, September 20, 2026 - 10:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত ও বিক্রি করা হচ্ছে চিকেন চাপ, নান রুটিসহ হরেক পদের খাবার। রাস্তার পাশে খোলা বড় তাওয়ায় চিকেন চাপ ভাজার সময় আশপাশের ধুলাবালি ও ময়লা-জীবাণু খাবারে মিশে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকলেও তা সুরক্ষায় দোকানগুলোতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় নামিদামি রেস্তোরাঁসহ অধিকাংশ খাবারের দোকানের সামনের অংশেই খোলা তাওয়ায় চিকেন চাপ ভাজছেন কর্মচারীরা। পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক থেকে প্রতিনিয়ত ধুলাবালি উড়ে এসে সেই খাবারে পড়ছে।

একইভাবে ভাজা নান রুটি ও অন্যান্য প্রস্তুতকৃত খাবারও অধিকাংশ স্থানে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। খাবার ঢেকে না রাখার বিষয়ে একাধিক দোকানমালিক ও কর্মচারীর দাবি, খাবার ঢেকে রাখা হলে ক্রেতারা সহজে তা দেখতে পান না। এতে তাদের বেচাকেনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেই তারা উন্মুক্তভাবে খাবার ভাজছেন ও রাখছেন।

তবে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে ধুলাবালি, ময়লা ও জীবাণু থেকে খাবার সুরক্ষায় স্বচ্ছ ও ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কের পাশে খোলা জায়গায় খাবার ভাজার ক্ষেত্রে আশপাশের পরিবেশিক ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার তাগিদ দেন তারা।

নগরীর সচেতন নাগরিকদের মতে, কাঁচ বা স্বচ্ছ কোনো আবরণ দিয়ে রান্না ও পরিবেশনের স্থানটি ঘিরে রাখলে বাইরে থেকে খাবার যেমন দৃশ্যমান থাকবে, তেমনি ধুলাবালি ও মাছি-ময়লা থেকেও সুরক্ষা মিলবে। এতে খাবারের গুণগত মান বজায় থাকার পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

দিনের পর দিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এমন চিত্র দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বন্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক বিপুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহী শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর ও সাহেববাজার এলাকার একাধিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে সতর্ক করার পর কিছুদিন তারা নিয়ম মেনে চললেও পরবর্তীতে আবারও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি শুরু করে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে ওইসব এলাকায় আবারও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।