ঢাকা | অগাস্ট ২৮, ২০২৬ - ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

হিমাগার ভাড়া নির্ধারণে জেলা সুপারিশ বাস্তবায়নে মানববন্ধন

  • আপডেট: Thursday, August 27, 2026 - 10:29 pm

স্টাফ রিপোর্টার: একদিকে মাঠে ফলানো আলুর ন্যায্য দাম মিলছে না, অন্যদিকে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সার-বীজ ও কীটনাশকের ব্যয় মিটিয়েও যখন কৃষক বাজারে আলুর কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না, তখন অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া তাঁদের লোকসানের বোঝা আরও ভারী করে তুলছে।

এ পরিস্থিতিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে জেলা সুপারিশ কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের দাবি, বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে। এ সুপারিশের বাইরে একতরফা ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ও প্রয়োজনে আইনগত লড়াইয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও সংগঠনের সদস্য মিঠু হাজী বক্তব্য দেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতা এবং আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর জন্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় তাঁরা মেনে নেবেন না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের লক্ষ্যে পৃথক সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার সুপারিশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত এলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াই চালানো হবে। হিমাগার মালিকেরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিলে কৃষকরাও তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালতে যাবেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হলেও হিমাগার মালিকেরা যোগসাজশ করে সংরক্ষণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় এবং হিমাগার ভাড়া বাড়ায় কৃষকের লোকসান আরও বেড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে ঐক্যবদ্ধভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।