ঢাকা | অগাস্ট ২০, ২০২৬ - ১০:০৫ অপরাহ্ন

চাঁপাইয়ে চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধ, ৯ ঘণ্টা পর বাস-ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক

  • আপডেট: Thursday, August 20, 2026 - 9:46 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁদা আদায় ও শ্রমিকদের মারধরকে কেন্দ্র করে দুই শ্রমিক সংগঠনের বিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সব রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস ও ট্রাক চলাচল ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে বিকেলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা। শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, বিরোধ নিরসনে গতকাল বৃহস্পতিবার  রাত ৯টায় দুই সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবার কথা রয়েছে।

এদিকে, হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। শ্রমিকরা জাানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচল করা বাস থেকে শ্রমিকদের কল্যানে ব্যয়ের জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে। এরই জের ধরে মঙ্গলবার মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা এক বাস শ্রমিকদের মারধর করে।

বিষয় নিয়ে বুধবার রাতে পুলিশের তত্ত্বাবধানে বৈঠকে বসে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। কিন্তু বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় বহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করে। এতে জেলার সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা পিকেটিং করে যানবাহন চলাচলেও বাধা দেয়।

জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন’ নামে একটি সংগঠন সড়কে বাস আটকে বেআইনি ভাবে চাঁদা তুলছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

তবে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ জুলমত  বলেন, তাদের সংগঠন নিয়ম মেনেই শুধু বাস থেকে চাঁদা আদায় করছেন। কিন্তু জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যানের পাশাপাশি বাস থেকে চাঁদা নিচ্ছে। অথচ বাস থেকে চাঁদা নেওয়ার অনুমতি ওই সংগঠনের নেই। এ সব বিষয় নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে ৬ বার বৈঠক হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক বলেন, দুই সংগঠনের বিরোধ মেটাতে বুধবার রাতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই আলোচনার পর দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জন্য সমঝোতা করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈঠকে সমঝোতা না হলেও শ্রমিক সংগঠনের দুই পক্ষকেই বলা হয়েছে, সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না।