ঢাকা | জুলাই ২৬, ২০২৬ - ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

  • আপডেট: Saturday, July 25, 2026 - 10:34 pm

স্টাফ রিপোর্টার: আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠায় রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রজ্ঞাপনের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও সরেজমিন তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে গত ২০ জুলাই জনস্বার্থে এই বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর পরদিন ২১ জুলাই ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে রাজশাহীতে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মূলত পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেনের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করবে এই কমিটি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দেশের সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই দিনে ই-জিপির পরিবর্তে সরাসরি অফলাইনে (ডিপিএম) নিয়োগ সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি অনুমোদন প্রদান করে এবং ৩০ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষের সময়সীমা বেঁধে দেয়। এর ওপর ভিত্তি করে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের জন্য ১৪৩ জন জনবল সরবরাহের কাজ পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী, ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের কথা বলা হয়। তবে পূর্বের অভিজ্ঞ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম থাকায় ইসি থেকে প্রেরিত ১৩৭ জনের তালিকার ভিত্তিতে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড মোট ১৪৩ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে চলতি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে তারা কর্মস্থলে যোগ দেন। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালে গণমাধ্যমে খবর আসে যে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মী কোনো প্রকার টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশনের দেয়া নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে এবং তাদের আলাদা কোনো নতুন তালিকা তৈরি করা হয়নি। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ লেনদেন করে থাকে, তবে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান বহন করবে না। অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা আনিছুর রহমানও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সরকারি নীতিমালা ও মূল্যায় কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, এখানে কোনো বিধিভঙ্গ বা অনিয়ম ঘটেনি।