ঢাকা | জুলাই ২৫, ২০২৬ - ১১:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বর্ষা-বন্যায় রাজশাহীর বাজারে আগুন, দিশেহারা ক্রেতারা

  • আপডেট: Saturday, July 25, 2026 - 10:35 pm

স্টাফ রিপোর্টার: টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজি, ডিম, মুরগি ও মাছের দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এর ফলে বাজারে এসে কেনাকাটা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ।

শনিবার সকালে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সাহেববাজার ও মাস্টারপাড়াসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হাতে গোনা দুই-একটি পণ্য ছাড়া ৮০ টাকা কেজির নিচে মিলছে না কোনো সবজি। বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ৩৫ টাকা, পটল ও চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও অন্যান্য পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। বাজারে বর্তমানে গাজর ১৪০ টাকা, বেগুন ১১০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কাঁকরোল ও কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, মুখি কচু ৭০ টাকা এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম, গত সপ্তাহে যা ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল, তা বর্তমানে কেজিতে প্রায় ১৬০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায়। পাশাপাশি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

সবজির পাশাপাশি বাজারে ফার্মের ডিম ও মাংসের দামেও চরম ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিম ৪৪ টাকা, সাদা ডিম ৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া বাজারে ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, ফাউমি ও লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজারেও কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২১০ টাকা, পাঙাশ ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং চাষের শিং ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ও চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং দেশি কৈ ও শিং ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে মাস্টারপাড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী রবিউল আলম তুষার আক্ষেপ করে বলেন, কিছুদিন আগেও যে বাজার ৫০০ টাকায় করা যেত, এখন একই বাজার করতে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা লাগছে। সবজির বাজারে বিন্দুমাত্র স্বস্তি নেই। বর্ষার কারণে সবজির উচ্চমূল্য থাকায় তেরোখাদিয়া এলাকার ক্রেতা রাবেয়া বাজারে এসে অন্য সবজি না কিনে শুধু আলু নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি জানান, বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি না থাকায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানো দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বাজারের এমন হঠাৎ পরিবর্তন নিয়ে বিক্রেতারা জানান, মূলত অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণেই মোকামগুলোতে সবজির সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা জসিম ও সালাম জানান, সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বাড়তি, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তারা আরও জানান, দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে আগের চেয়ে তাদের বেচাকেনা ও লাভ দুটোই কমে গেছে।