ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৬ - ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ভুয়া রশিদে টাকা আত্মসাৎ: জীবন বীমার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

  • আপডেট: Thursday, July 23, 2026 - 10:39 pm

স্টাফ রিপোর্টার: গ্রাহকের পেনশন বীমার প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ টাকা অফিসে জমা না দিয়ে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে জীবন বীমা কর্পোরেশনের এক শাখা ব্যবস্থাপক এর বিরুদ্ধে গত বুধবার রাজশাহীর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে রাজশাহীর বিজ্ঞ সিএমএম (বোয়ালিয়া) আমলী আদালতের বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার পরিজাত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা পেশায় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জীবন বীমা কর্পোরেশন রাজশাহী সেলস অফিস-৮৭ এর শাখা ম্যানেজার মোকছেদুল হক (২৭) ও বাবা সাইফুল ইসলাম (৪৮)।

মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর আসামি মোকছেদুল হকের আশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাদী আশরাফুল ইসলাম ২০২৩ সালের শেষ দিকে জীবন বীমা কর্পোরেশনে একটি পেনশন বীমা চালু করেন। নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত সময়ে অর্ধবার্ষিক কিস্তি প্রদান করে আসছিলেন। প্রথম চার কিস্তির জমাকৃত টাকার বিপরীতে আসামির কাছ থেকে কালেকশন রশিদ গ্রহণ করেন বাদী। তবে পঞ্চম কিস্তির টাকা গ্রহণ করা হলেও পরে রশিদ দেয়ার কথা বলে আর দেয়া হয়নি। পাঁচ কিস্তিতে বাদী মোট ৬ লাখ ১৮ হাজার ৯২০ টাকা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চ মাসে জীবন বীমা কর্পোরেশন অফিস থেকে বাদীকে জানানো হয় যে তাঁর বীমার কিস্তির টাকা নিয়মিত জমা হচ্ছে না। এরপর বাদী অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রথম কিস্তির টাকা জমা হলেও পরবর্তী চারটি কিস্তির সর্বমোট ৪ লাখ ৯৫ ১৩৬ টাকা শাখা ম্যানেজার মোকছেদুল হক সংস্থায় জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাদীকে জানান, কিস্তি গ্রহণের বিপরীতে বাদীকে যে রশিদগুলো দেয়া হয়েছিল, তা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া রশিদ। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জীবন বীমা কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত শাখা ম্যানেজার মোকছেদুল হক ও তাঁর বাবা সাইফুল ইসলাম টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত টাকা পরিশোধ করে পলিসি হালনাগাদ করার মর্মে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আসামিরা টাকা জমা বা ফেরত না দিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। সম্প্রতি বাদী পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং মারমুখী আচরণ করে হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে বাদী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে আদালত অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। বাদি পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু, তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল কাফি ও অনু মন্ডল।