ঢাকা | জুন ১১, ২০২৬ - ২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে আলু খালাস বন্ধ রাখছেন ব্যবসায়ীরা, তীব্র সংকটের আশঙ্কা

  • আপডেট: Wednesday, June 10, 2026 - 10:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া একতরফা ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী জেলায় আলু খালাস ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। ভাড়া পুননির্ধারণের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে জেলার ৩৬টি হিমাগার থেকে আলু বের করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে আলু চাষি, সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে হিমাগার মালিকদের এই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আলু খালাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

৩০০ টাকার ভাড়া ৪৭৫: ক্ষুব্ধ কৃষক ও ব্যবসায়ী: লিখিত বক্তব্যে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি অভিযোগ করেন, হিমাগার মালিকেরা কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে একক সিদ্ধান্তে আলুর ভাড়া একলাফে বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। আগে যেখানে প্রতি বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা (যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা করা হয়েছিল), তা এখন একতরফাভাবে বাড়িয়ে ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত ২০২৫ সাল থেকেই এই বর্ধিত ভাড়ার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করে আসছেন। তৎকালীন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের আশ্বাসে তারা এতদিন ধৈর্য ধরেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও মেলেনি সমাধান: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভাড়া পুনর্বিবেচনার জন্য গত ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান সমাধান না আসায় বাধ্য হয়েই তারা আলু বেচাকেনা ও খালাস বন্ধের মতো কঠোর আন্দোলনের পথে হেঁটেছেন। সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, হিমাগার মালিকদের এই সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ আলু চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পাল্টা যুক্তি: এদিকে হিমাগার মালিকদের সংগঠন রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার ব্যবসায়ীদের এই দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, গত বছর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অনেক ছাড় দিয়ে ভাড়া পুননির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার স্থলে ৬ টাকা ভাড়া নেয়া হয়েছিল এবং বাকিটা কমিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই নিয়মই বজায় রাখা হয়েছে। হিমাগার মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় হিমাগার পরিচালনার খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় খরচ সামাল দিতে বর্ধিত ভাড়া বহাল রাখা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। গতবারের নিয়মেই তারা ভাড়া আদায় করবেন।

বাজারে বড় সংকটের পূর্বাভাস: রাজশাহী অঞ্চলে উৎপাদিত আলু সারা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। প্রতিদিন গড়ে ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে না এলে ক্ষণিকের মধ্যেই খুচরা বাজারে আলুর দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—দুই পক্ষের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণ ও ক্ষুদ্র আলু চাষিদের বাঁচাতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।