ঢাকা | জুলাই ২৫, ২০২৬ - ১১:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দুর্গাপুর পরীক্ষা দিলো মা, সন্তান ইউএনও’র কোলে

  • আপডেট: Saturday, July 25, 2026 - 10:42 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: রাজশাহীর দুর্গাপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফ্যামিলি কার্ড শুমারীর জরিপকারী প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে আসেন সাবিনা ইয়াসমিন (২৮) নামের এক নারী। তার কোলে ছিল ১০ মাসের শিশু সন্তান।

শনিবার সকাল ১০টার পরে কেন্দ্রে শুরু হয় পরীক্ষা। এ সময় ছোট্ট সন্তান কোলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারী তথ্য সংগ্রহকারী পদে পরীক্ষা দিতে এসে বিপাকে পড়েন সাবিনা। সন্তান কার কাছে রেখে পরীক্ষা দিবেন এমন চিন্তায় কেন্দ্রেই হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টা নজরে আসে পরীক্ষা কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকা  উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানার। পরে ইউএনও নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে সময় কাটান আর নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেন ওই শিশু সন্তানের মা সাবিনা ইয়াসমিন।

ইউএনও কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, শনিবার উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারীতে জরিপকারীর প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার দিন ধার্য ছিল। উপেজলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে এদিন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার দুটি পদে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৫০জন। এরমধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ৮০জন কৃতকার্য হবেন। এছাড়াও কিছু সংখ্যক প্রার্থীকে রিজার্ভ রাখা হবে।

শিশুর মা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তাড়াহুড়ো করে কাউকে না নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাচ্চাকে নিয়ে কেন্দ্রে চলে আসি। কিন্তু বাচ্চাকে রাখার কাউকে পাচ্ছিলাম না। বিষয়টা ইউএনও স্যার দেখে তিনি আমার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেন। ইউএনও স্যার মহাঅনুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

পরীক্ষা কেন্দ্রের ১২৫ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী আশরাফুল হক বলেন, আমরা যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলাম ইউএনও স্যার কক্ষ পরিদর্শন করেন একটি ছোট্ট বাচ্চা কোলে নিয়ে। আমরা মনে করছিলাম ওই বাচ্চাটা তারই। পরীক্ষা শেষ করে জানতে পারি বাচ্চাটি আসলে তার না। একজন মা পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন বাচ্চাটা উনি কোলে নিয়ে থেকে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা সবার ভালো লেগেছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, সবশেষ আমিও একজন মা। আমি সন্তানদের অনুভূতি বুঝি। আমি যখন বিসিএস পরীক্ষা দিই তখন আমার বাচ্চা ছোট ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে যেয়ে সন্তান বিড়ম্বনায় পড়েছিলাম। আমার সন্তানকে অন্যের কোলে দিয়ে আমি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। এ বিষয় গুলো আমি ফিল করি। পরীক্ষার্থীরা যদি কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার না হয় সেই লক্ষে কাজ করি। এটা আমার ভালো লাগে। ইউএনও আরও বলেন, একজন মা যদি সন্তানের কারণে পরীক্ষা দিতে না পারে। সেটা সবার জন্যই কষ্টের। তাই ক্ষুদ্র এই চেষ্টা।