ঢাকা | জুন ১১, ২০২৬ - ১:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বই নিয়ে বিতর্ক

  • আপডেট: Wednesday, June 10, 2026 - 10:40 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে প্রকাশিত বই পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গ্রন্থাগারের গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের একটি গাড়িতে এসব বই দেখতে পান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর তারা গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। পরে জেলা প্রশাসক নিজে গ্রন্থাগারের বইগুলো পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বইগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে এসব বই আর পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার প্রকল্পটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রন্থাগারের গাড়িটি রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল।

এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বইগুলো দেখে আপত্তি তোলেন। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসককে বইগুলো দেখানো হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ডিসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, গ্রন্থাগারে শেখ মুজিব, ফ্যাসিবাদের নেত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই পাওয়া গেছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব বই নিষিদ্ধ কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রাজশাহীতে তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান ছাত্রদল নেতা।

অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত কিছু বইও রয়ে গিয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, ইতোমধ্যে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে যে এসব বই আর কোনো কার্যক্রমে বহন বা প্রদর্শন করা হবে না।