নো ম্যান্স ল্যান্ডে থাকা সেই ২৮ জনকে আর দেখা যাচ্ছে না
বিজিবি’র প্রতিরোধের পেছনে শক্তি যুগিয়েছে জনগণ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজিবির প্রতিরোধে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবেশেষে ওই ২৮ জনকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। আর পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে শক্তি যুগিয়েছে, বিজিবির পাশাপাশি গ্রামপুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগন ও যুবসমাজ।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবির প্রতিরোধে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওই ২৮ নারী, পুরুষ ও শিশু ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিল। বর্তমানে গতকাল শনিবার ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাদের অবস্থান এবং চলাচল পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধি করে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোররাতের দিকে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশুকে বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারের কাছ দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে বিজিবিকে জানালে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ওই ২৮ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার দিন কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। সে সময় বিএসএফ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর কোনো উত্তর দেয়নি।
অন্যদিকে, হঠাৎ বিএসএফের বিভিন্ন সীমান্তে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের এই অবৈধ পুশইনের অপচেষ্টা বিজিবির পাশাপাশি গ্রামপুলিশ, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগন এগিয়ে এসে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মুখে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে সেই ঐসব ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
এ বিষয়ে সীমান্তবর্তী বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার সারিফুল ইসলাম সাদ্দাম জানান, যদি ঐসব পুশইনকৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হয় এবং তাদের বৈধ কাজগপত্র থাকে, তবে তাদেরকে বৈধভাবে সীমান্তে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করুক এবং সেক্ষেত্রে বিজিবি তাদের কাগজপত্র সঠিক, তাহলে তাদেও নিয়ে নিবে। কিন্তুু বিএসএফ সেসব নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে ঐসব ব্যক্তিদের রাতের আধাঁরে চুপিসারে বাংলাদেশের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এতে সীমান্তে উত্তেজনা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরে মাঝে আতংক বাড়ছে। যা দুদেশের পারস্পারিক সম্পর্ক টানাটানি শুরু হয়েছে। যা আমরা সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তা চাই না।











