ঢাকা | জুন ৫, ২০২৬ - ১:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চাঁপাইসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

  • আপডেট: Thursday, June 4, 2026 - 11:06 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ২৮ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর তৎপরতা ও বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তজুড়ে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জই নয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পুশ-ইনের ১০টি পৃথক অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীনস্থ বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত এলাকায় গত বুধবার দিনগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে এই পুশইনের ঘটনা ঘটে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গাবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে ওই ২৮ জন ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যানসল্যান্ড) অবস্থান করছেন।

সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন:

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও পুশইনের এই সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিএসএফ সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করার পর ওপার থেকে সতর্ক অবস্থান নেয়া হয়েছে। জবাবে বিজিবিও তাদের সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে সীমান্ত এলাকায় কঠোর টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক মাইকিং শুরু করা হয়েছে। মাইকিংয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনুপ্রবেশের যেকোনো চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে পুশ-ব্যাকের উদ্যোগ নেয়া হবে।

অন্যান্য সীমান্ত:

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তা সফলভাবে প্রতিহত করে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, ঝিনাইদহের যাদবপুর সীমান্তে ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। ফলে তারা আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। একই জেলার সামন্তা সীমান্তে বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশ-ইনের উদ্দেশে অবস্থান করতে দেখা গেলেও বিজিবির তৎপরতায় তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ১০ জনকে একত্র করে পুশ-ইনের প্রস্তুতি নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিএসএফ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশ-ইন করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়। সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তেও স্থানীয়দের হাতে আটক দুই ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের উদ্দেশে একত্র করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। সীমান্তের ওই অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।

বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস