ঢাকা | মে ২৩, ২০২৬ - ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় জমির মালিকানা নিয়ে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি মামলা

  • আপডেট: Saturday, May 23, 2026 - 12:14 am

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় জমির মালিকানা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন এক শতক জমির মালিকানা নিয়ে চা-স্টল মালিক নরেন চন্দ্র দাস এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ কুমারের মধ্যে এই বিরোধ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিন্দুপাড়া এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে থানা ও আদালতে একাধিক পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন ভবানীগঞ্জ মৌজায় ১৪১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৬১ নম্বর দাগের এক শতক বসতবাড়ির জমির দখল নিয়ে নরেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে প্রতিবেশী দিলীপ কুমারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। উভয় পক্ষই এই জমি ক্রয়সূত্রে নিজেদের বলে দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চললে, আদালত ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

চা-স্টল মালিক নরেন চন্দ্র দাসের অভিযোগ, দিলীপ কুমার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলকারীরা তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে দেয় এবং একটি আমগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৫টি গাছ কেটে ফেলে। এরপর জমির চারদিকে টিন দিয়ে ঘিরে ‘ভরসার আলো’ নামে একটি এনজিওর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে। এতে বাধা দিতে গেলে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দিলীপ কুমারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অপরদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শ্রীমতি শক্তিরানী হালদারের কাছ থেকে ১২/০৬/২০২৪ ইং তারিখে ৩৩১৮ নম্বর দলিল মূলে ০.০৪ একরের কাত ০.০১৩৩ একর জমির তিনি বৈধ মালিক। অথচ নরেন চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে তার এই বৈধ জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। ওই জমিতে প্রবেশ করতে গেলে নরেন চন্দ্র ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নরেন চন্দ্র দাসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। দিলীপ কুমার আরও জানান, নরেন চন্দ্র দাসের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনে দলিল মূলে তিনি (দিলীপ কুমার) জমির বৈধ মালিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে নরেন চন্দ্র দাস বাধা দিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি করেন।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে যেন কেউ প্রবেশ না করে, সে মর্মে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক পক্ষ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।