ঢাকা | মে ২১, ২০২৬ - ১০:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ঈদযাত্রায় পশ্চিমাঞ্চল রেলে ৯ ট্রেনে বাড়তি বগি, চলবে স্পেশাল ট্রেন

  • আপডেট: Thursday, May 21, 2026 - 10:42 pm

সারাদেশে প্রস্তুত হচ্ছে ২৫১ রেলকোচ:

জগদীশ রবিদাস: আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো লাখো মানুষের নাড়ির টানের যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। এবার ঈদযাত্রার অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামলাতে এই অঞ্চলের ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের বহরে যুক্ত হচ্ছে বিশেষ অতিরিক্ত বগি (কোচ)। এর পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধার্থে জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুরের মধ্যে চলাচল করবে একটি বিশেষ (স্পেশাল) ট্রেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এই অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনে ঈদের আগে একটি এবং ঈদের পরে দুটি করে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে সাধারণ যাত্রী ও এসি উভয় ধরনের কোচই থাকবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে সাধারণত ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত এবং ঈদের পরে ২৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ট্রেনগুলোতে এই অতিরিক্ত যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকবে। তবে আগামী ২৭ মে ৭৯৩ নম্বর ট্রেন (পঞ্চগড় এক্সপ্রেস) চলাচল করবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ২৩ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত বগি যুক্ত থাকবে নীলফামারী/রকেট এবং সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রুটের বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসে এবং উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেসে ঈদের আগে ও পরে এই অতিরিক্ত কোচগুলো সংযোজন করা হবে।

সৈয়দপুর কারখানায় ১২৭ কোচ মেরামতের ধুম

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও বাড়তি কোচের জোগান দিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। দেশের অন্যতম প্রাচীন (১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত) এই কারখানায় এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেকর্ড ১২৭টি কোচ মেরামতের কাজ চলছে, যা গত ঈদুল ফিতরের (১০৬টি) চেয়ে ২১টি বেশি। কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ নিশ্চিত করেছেন যে, ইতিমধ্যে ৯৯টি কোচ মেরামত শেষে রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ২৮টি কোচ আগামী শনিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এছাড়া পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের চাহিদা পূরণে ইতিমধ্যে ১০৩টি কোচ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এই কোচগুলো নীলফামারীর চিলাহাটি, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে। জনবল সংকটের মধ্যেও এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করছেন কারখানার কর্মীরা। ২ হাজার ৮৫৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬৬৪ জন (মাত্র ২৩ শতাংশ) জনবল নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন শ্রমিকরা।

কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং ক্যারেজ শপের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম জানান, জনবল সংকট থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বগি, হেভি রিপেয়ারিং, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন ও পেইন্ট শপসহ মোট ২৪টি শপের সহায়তায় পুরাতন কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, ট্রলি মেরামত, আসন বিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও ধোয়া-মোছার কাজ পুরোদমে চলছে।

সারাদেশে প্রস্তুত হচ্ছে ২৫১ রেলকোচ

শুধু পশ্চিমাঞ্চলই নয়, প্রতিবছর ঈদযাত্রায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় এবার সারাদেশে মোট ২৫১টি রেলকোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সৈয়দপুর কারখানায় ১২৭টি এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কারখানায় ১২৪টি বগি মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসান জানান, রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা ও চাপ বেশি থাকে। তাই দেড় মাস আগে থেকেই তারা বগি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ১২৪টির মধ্যে ৯৯টি বগি মেরামত শেষে পরিবহন বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট বগিগুলো ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই হস্তান্তর করা হবে।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় নিয়মিত ট্রেনে দুটি থেকে পাঁচটি পর্যন্ত অতিরিক্ত বগি যুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন।