রাণীনগরে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়ায় দিশেহারা কৃষক
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে গত সোমবার ভোররাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে বসেছে। মাঠের উঠতি ইরি-বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন উপজেলার হাজারো চাষি। একদিকে বৈশাখী মেঘের ঘনঘটা, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটে সোনালি ধান ঘরে তোলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিল মুনসুর, বিল চৌর ও ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত নিম্নাঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল।
কিন্তু সোমবারের ঝড়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, ধান পাকার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে ধানের মান ও পরিমাণ—উভয়ই কমে যাবে। বৈশাখী আকাশের মেঘ দেখে চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
মাঠের ধান ঘরে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। প্রতি বছর দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রচুর শ্রমিক এলেও এবার তাদের দেখা মিলছে না। ফলে স্থানীয় শ্রমিকদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে ধান মাটিতে নুয়ে পড়ায় ধান কাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শ্রমিকরা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছে। বিঘা প্রতি ধান কাটতে শ্রমিকরা ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দাবি করছে, যা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে।
উপজেলার হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, আমার সোয়া তিন বিঘা জমির ধান ঝড়ে শুয়ে পড়েছে। একদিকে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা আছে তারা বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা চাচ্ছে। ধানের বাজারদরও কমতির দিকে। সব মিলিয়ে এবার বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। তবে ঝড়ে বেশ কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি যাতে দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। আকাশ পরিষ্কার হলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে পারে।











