ঢাকা | এপ্রিল ২৯, ২০২৬ - ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে বিএমডিএ ও পল্লী বিদ্যুতের দ্বন্দ্বে বলির পাঁঠা কৃষক

  • আপডেট: Tuesday, April 28, 2026 - 9:15 pm

সাইদ সাজু, তানোর থেকে: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বাড়ির সাব-মার্সিবল পাম্প দিয়ে জমিতে সেচ দেয়া যেন কৃষকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলের লোকসান কাটিয়ে উঠতে নিজের বাড়ির পাম্প দিয়ে সামান্য জমিতে সবজি বা ধান চাষ করে এখন পল্লী বিদ্যুতের গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিলের সাথে ‘অবৈধ সেচ’ এর দোহাই দিয়ে কৃষক প্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা যুক্ত করায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার সামিরুল ইসলাম বাবুর মতো হাজারো কৃষক এখন দিশেহারা। সামিরুল তার বাড়ির পাশের মাত্র ১৫ শতক জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারি ও মার্চ-এই দুই মাসেই তার বিলে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানা যুক্ত করে ৬ হাজার ২৩৪ টাকার বিল পাঠিয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে আলু, পেঁয়াজ ও রসুনে তারা ব্যাপক লোকসান গুণেছেন। এবার যখন একটু লাভের আশায় বাড়ির পাম্প দিয়ে পতিত জমিতে চাষাবাদ করছেন, ঠিক তখনই পল্লী বিদ্যুতের এই জরিমানার বোঝা তাদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। তানোরের সচেতন মহলের দাবি, কয়েক হাজার কৃষকের কাছ থেকে এভাবে জরিমানার নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও বিএমডিএ-র রশি টানাটানি: তানোর উপজেলায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অনেক গভীর নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়েই কৃষকরা বাড়ির পাম্প দিয়ে সামান্য জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তানোর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম রেজাউল করিম খান জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোরো মৌসুমে  মটর পাম্পে সেচ না দিতে মাইকিং করা হয়েছিল। নিয়ম অমান্য করায় কেবল মার্চ মাসেই ৭৩৫ জন গ্রাহককে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএমডিএ-র তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম এই পরিস্থিতির জন্য পল্লী বিদ্যুৎকেই দায়ী করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “বিএমডিএ-র এরিয়ার মধ্যে অনুমোদনহীন বা অবৈধ মটারে পল্লী বিদ্যুৎ কেন সংযোগ দিয়েছে?” তিনি অভিযোগ করেন, যত্রতত্র সংযোগ দেয়ার ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে এবং এখন সেই দায় কৃষকের ওপর চাপিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে, তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এত বিপুল সংখ্যক কৃষককে জরিমানা করার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি দ্রুত বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমান সরকার যেখানে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন মাফ করে কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে, সেখানে পল্লী বিদ্যুতের এমন কঠোর অবস্থান কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কৃষকই এখন ক্ষোভে চাষাবাদ ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস