ঢাকা | এপ্রিল ২৪, ২০২৬ - ২:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাণীনগরে পরীক্ষামূলক পান চাষ শুরু

  • আপডেট: Thursday, April 23, 2026 - 9:19 pm

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁর রাণীনগরে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি পরীক্ষামূলক ভাবে পান চাষ শুরু করেছে প্রগতিশীল চাষি শহিদুল ইসলাম। এই এলাকায় ধানের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় চাষিরা শুধুমাত্র ইরি-বোরো ও আমন ধানের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে। কিন্তু চাষি শহিদুল ইসলাম এক মুখী ফসলের কাছ থেকে কিছুটা বের হয়ে লাভজনক ফসল হিসেবে পান চাষ শুরু করেছে। তার পান চাষের বয়স এক বছর হওয়ায় ইতি মধ্যে প্রায় ৬ বার পানের বরজ থেকে পান তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। যে পরিমান বিক্রি হয়েছে তাতে আশার আলো দেখছেন তিনি।

তাই আগামী দিনে আরো কিছু জমিতে পান চাষের পরিধি বাড়িয়ে দিবেন বলে জানান। ইতি মধ্যে এলাকায় নতুন ফসল পান চাষ দেখতে আদর্শ ও উদ্যোমী কিছু কৃষক দেখতে আসলেও কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তা তার পান চাষ দেখতে আসেনি। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কারিগড়ি প্রশিক্ষন ও সহযোগীতা করলে অবশ্যয় পান চাষের সফলতার মুখ দেখবে চাষি শহিদুল। পান একটা লাভজনক ফসল। সারা বছরই এখান থেকে টাকা আসে।

জানা গেছে, উপজেলার একডালা ইউনিয়নের টং গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫) একজন প্রগতিশীল কৃষক। ধানসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে প্রায় সারা বছরই ব্যস্ত সময় পার করেন। গত ১০ বছর আগে তার ছেলে ইমনকে রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকায় বিয়ে দেয়। সে সূত্র ধরে মাঝে মধ্যে আত্নীয়তা রক্ষায় ওই এলাকায় ছেলের শ্বশুর বাড়িতে যাতেন। ওই এলাকায় পান চাষ দেখে কিছুটা উৎসাহী হয়ে ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের পরামর্শ এবং প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় এক বছর আগে টং মৌজার তার পৈত্রিক ৭শতক জমিতে পান চাষ শুরু করে শহিদুল। প্রথম থেকে নিজেই পানের পরিচর্যা করে ধীরে ধীরে বড় করে তোলেন।

পান গাছে কোন ধরণের রোগবালাই দেখা দিলে ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সহযোগীতা নিতেন চাষি শহিদুল। চার মাসের মাথায় প্রথমে পানের বরজ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকার পান বিক্রি করেন। সব মিলে এই জমি থেকে বছরে প্রায় ৯০ হাজার টাকার পান বিক্রি হওয়ায় পান চাষের উজ্জল সম্ভবনা দেখছেন তিনি। সরকারি সহযোগীতা পেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের চাষ কিছুটা কমে দিয়ে পান চাষের দিকে বেশি মনোযোগী হবেন এমনটাই জানান চাষি শহিদুল ইসলাম। বর্তমানে পানের বরজে ফলন বেশ ভালো হচ্ছে। প্রতি ১৫ দিন পরপর বরজ থেকে প্রায় ১৪ হাজার টাকার বিক্রি হয়। আমার বরজের পান সুস্বাদু। বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে এবং দিন দিন এই পানের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রানীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, এখানে পানের বরজ আছে কি না তা আমার জানা ছিলো না। এটা এই প্রথম আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। তবে বিষয়টি অত্যান্ত ইতিবাচক। আমি নিজে ওই পানের বরজটি পরির্দশনে যাবো এবং কৃষক শহিদুলকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা ও পরার্মশ প্রদান করবো। যেহেতু এখানে পান চাষ একেবারেই নাই। তাই কৃষকরা সাধারণত সরাসরি পরামর্শ পান না। কিন্তু শহীদুল ইসলামের মতো প্রগতিশীল কৃষক এই উপজেলায় পান চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আশাকরি আগামীতে আরো ভালো করবে।