ঢাকা | মার্চ ২৭, ২০২৬ - ১:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

​রাজশাহীতে স্বাধীনতা দিবসে গিতা পাঠ নিয়ে বিতর্ক, যা জানাল জামায়াত

  • আপডেট: Thursday, March 26, 2026 - 10:45 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গীতা থেকে পাঠ না করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্বাধীনতা দিবসের তিন দিন আগে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে মোবাইল ফোনে পরামর্শ চাইলে মুজিবুর রহমান গীতা পাঠ না রাখার নির্দেশনা দেন। ইউএনও নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে নিন্দা জানায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

তবে বাস্তবে যদিও জাতীয় কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি গীতা থেকেও পাঠ করা হয়। ওই সময় সংসদ সদস্য উপস্থিত না থাকলেও পরে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিষয়টি অনুষ্ঠান শেষে জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সমালোচনা শুরু হয়।

যা বলছে জামায়াত: 

এদিকে বিষয়টি সামনে আসার পর দলীয়ভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জামায়াতে ইসলামী।

মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে ‘গীতা পাঠ না রাখার’ নির্দেশনা দেওয়া নিয়ে রাজশাহী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে- সেটির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে রাজশাহী জেলা জামায়াত।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে গীতা পাঠ না রাখার নির্দেশ জামায়াত নায়েবে আমিরের’ শীর্ষক সংবাদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির উদ্ধৃতি ব্যবহার করে যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, সংসদ সদস্য আজ কোথাও, কোনো সভা-সমাবেশে কিংবা কোনো কর্মকর্তার নিকট এ ধরনের কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। তার বক্তব্য সম্পর্কে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বাস্তবতা বিবর্জিত।’

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক এবং সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, যাচাই-বাছাই ব্যতীত এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালার পরিপন্থি এবং এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা দিবস জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও মর্যাদার প্রতীক। এ দিবসকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে অবিলম্বে এ সংবাদের সংশোধন, দুঃখপ্রকাশ ও প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘সব গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের আহ্বান—তারা যেন বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যনিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করে এবং কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকে।’