ঢাকা | নভেম্বর ৩, ২০২৬ - ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পদ্মা-মহানন্দা মোহনায় অবাধে বালু-মাটি উত্তোলন: নৌবন্দর ও বাঁধ নিয়ে শঙ্কা

  • আপডেট: Monday, November 2, 2026 - 9:51 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ পদ্মা-মহানন্দা নদীর মোহনায় বিআইডব্লিউটিএর আন্তর্জাতিক নৌপ্রটোকল রুট সংলগ্ন সীমানায় ড্রেজার ও এক্সকেভেটর দিয়ে অবাধে বালু ও পলিমাটি তোলার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি গেজেটভুক্ত এই ২০ কিলোমিটার নদী এলাকায় আন্তর্জাতিক নৌবন্দরের অবকাঠামো ও নৌপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কিন্তু সেই সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার পরেও নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে উর্বর পলিমাটি কেটে নেয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষে সুলতানগঞ্জ ও ভারতের ময়া নৌবন্দরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নৌযোগাযোগ চালু হয়। স্পর্শকাতর এই পয়েন্টে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর নাব্য হারানোর পাশাপাশি মূল বন্দর সীমানা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন প্রতিরোধে ও বন্দর রক্ষায় তারা বালুমহালটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সাম্প্রতিক বন্যায় নদীর পাড়ে জমে থাকা উর্বর পলিতে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ট্রাক্টর ও ড্রেজার দিয়ে মাটি-বালু সরিয়ে নেয়ার ফলে পাড়ের বসতবাড়ি ও কৃষি জমি এখন তীব্র নদী ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সাবেক ইজারাদারের ওই বালুমহালের ওপর আর কোনো আইনগত ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকে না। সে লক্ষ্যেই জেলা মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে মহালটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত আইনি আদেশের সুযোগ নিয়ে সাবেক ইজারাদার পক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন থেকে বিআইডব্লিউটিএকে দ্রুত আইনি আপিল ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হলেও নানা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।

এদিকে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের আদেশের কপি পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও রিট আপিল গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তবে নদী গবেষক ও পরিবেশবিদদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এই আন্তর্জাতিক নৌবন্দর এলাকায় অবিলম্বে বালু ও মাটি কাটাহাঁটা পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে নৌপ্রটোকল রুটটি অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।