ঢাকা | নভেম্বর ২, ২০২৬ - ১০:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

নগরীতে জমি নিয়ে বিরোধ ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট: Monday, November 2, 2026 - 9:52 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার কালাই হাউস-সংলগ্ন একটি জমির ইজারা, মালিকানা ও দখল নিয়ে সম্প্রতি জটিলতা তৈরি হয়েছে। জমিটির বায়না পরিশোধের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদার হিসেবে অপপ্রচারের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবির।

সোমবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি পত্রিকা অফিসের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগীরা এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির জানান, প্রায় তিন বছর আগে চুক্তি সাপেক্ষে অগ্রিম অর্থ প্রদান করে কালাই হাউস-সংলগ্ন ফাঁকা জমিটি ভাড়া নেন। পরবর্তীতে নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ করে মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, যার চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়।

এর মধ্যে জমির মূল মালিকের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিলে তারা প্রকৃত ওয়ারিশদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের চারজনের সাথে স্ট্যাম্প ও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থ বায়না বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে বায়না চুক্তির পর পরিবারের এক আত্মীয়ের উসকানিতে বিরোধ শুরু হয় এবং নির্ধারিত কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার চাপ দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ী পক্ষ থেকে শিগগিরই আদালতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কবিরের উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জমির মালিকপক্ষের সদস্য শাকিলা তাসকিন। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের উপস্থাপিত ওয়ারিশ সনদ ও চুক্তি সংক্রান্ত অনেক তথ্যই ভিত্তিহীন। প্রতিপক্ষের দাবিকৃত ৩০ লাখ টাকার বায়নার বিষয়টি অসত্য উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের নিকট মাত্র ১০ লাখ টাকা বায়নার বৈধ চুক্তিপত্র রয়েছে। প্রকৃত দলিল ও ওয়ারিশ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনি ও দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালাই হাউস-সংলগ্ন এই জমির ইজারা, মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবির কারণে এলাকাটিতে সামাজিক ও ব্যবসায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।