ঢাকা | নভেম্বর ১, ২০২৬ - ১:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসি ফলে চরম বিপর্যয়, পাস ৪৫.০৬ শতাংশ

  • আপডেট: Saturday, October 31, 2026 - 11:41 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত সাত বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে এই বোর্ড।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী পাসের হার তলানিতে ঠেকে ৪৫.০৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা করোনাকালীন অটোপাসের পর সর্বনিম্ন। পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও দেখা গেছে বড় বিপর্যয়। তবে এ সার্বিক মন্দা ফলাফলের মধ্যেও ছেলেদের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ভালো করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে ছাত্রীরা।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, এ বছর রাজশাহী বোর্ডের অধীনে বিভাগের আটটি জেলার ৭৪৩টি কলেজের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০৮টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বোর্ডে মোট নিবন্ধিত ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে মাত্র ৬১ হাজার ৮৯৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। পাসের হারের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৩.০৩ শতাংশ হলেও ছেলেদের ক্ষেত্রে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৭.৭১ শতাংশে। শুধু পাসের হার নয়, ফলাফলের সর্বোচ্চ স্থান জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি দেখা গেছে।

এবার বোর্ডে সর্বমোট ৪ হাজার ৫২০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জন ছেলে এবং ২ হাজার ৫৫৫ জন মেয়ে। গত বছর এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৬১৭ জন, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৫৫ শতাংশ কম।

ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলেও। এবার বোর্ডের অধীন ৩৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৫টি।

অন্যদিকে, শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ১৮টি থাকলেও এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯টিতে।

বোর্ডের বিগত বছরগুলোর ফলাফলের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায়, ২০২০ সালে শতভাগ পাসের পর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭.২৯ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ৮১.৬০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮.৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮১.২৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করে। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৫৯.৪০ শতাংশে নামে এবং চলতি ২০২৬ সালে এসে তা বড় ধরনের পতনের মুখ দেখে।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর কারণেই ফলাফলে এই প্রভাব পড়েছে বলে জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতা যেমন লিখেছে, ঠিক সেভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে কোনো অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি। সে কারণেই সামগ্রিক ফলাফলে এই প্রভাব পড়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিগত বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়ালেখায় কিছুটা অমনোযোগিতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এবারের এই খারাপ ফলাফল ও কঠোর মূল্যায়ন থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।