ঢাকা | অক্টোবর ১২, ২০২৬ - ১২:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হামলাকারীরা চিহ্নিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

  • আপডেট: Sunday, October 11, 2026 - 10:21 pm

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তরা চিহ্নিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই ঘটনার সত্যতা পেয়ে একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে। তবে পুলিশি মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও পুলিশের তদন্তের গতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে জড়িতরা অনলাইনে ও সরাসরি বিভিন্নভাবে তাদের প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে ক্যাম্পাসে তারা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, ‘দৈনিক সমকাল’-এর প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু, ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এর প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুলসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার ভিডিও চিত্র, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলায় সরাসরি জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন— শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এম আহসান হাবীব (আইন বিভাগ, ২০১৩-১৪), ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী (অর্থনীতি বিভাগ, ২০২১-২২, পূর্বে ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম (ইতিহাস বিভাগ, ২০১৭-১৮), সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথী (সংগীত বিভাগ, ২০১৯-২০), সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম (নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ২০১৩-১৪), সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন (আইবিএ, ২০১৭-১৮), সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ২০১৯-২০) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানিম রহমান (২০২৫-২৬)।

ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনায় হল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করলেও আসামিদের নাম উল্লেখ না করে ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখানো হয়। তবে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, কর্মী বিশাল চক্রবর্তী ও জিয়াউর রহমান হলের জিএস আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিনজনকে সতর্ক করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘটনার সত্যতা পেয়ে তিনজনকে বহিষ্কার এবং ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় প্রশাসন আসামিদের ধরছে না। তারা স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিচ্ছে। দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল বলেন, হামলাকারীরা অনলাইনে ও অফলাইনে আমাদের মেরে ফেলা এবং বাইরে পেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ক্যাম্পাস জীবনের বাকি সময়টা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। পুলিশ ও প্রশাসনের নীরবতা এই ভয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান বলেন, সাত দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার না করা পুলিশের বড় ব্যর্থতা। সব প্রমাণ থাকার পরও কেন অভিযান চালানো হচ্ছে না, তা রহস্যজনক। অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (কাজলা পুলিশ ফাঁড়ি) মোস্তাক জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের মেডিকেল সনদের আবেদন করা হয়েছে। প্রমাণ সংগৃহীত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশী তদন্তের পাশাপাশি বিষয়টির দ্রুত সুরাহার জন্য আমরা সিন্ডিকেট সভা ডেকেছি। গ্রেপ্তার বিষয়ে প্রক্টরের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস