রাজশাহীতে ৯ মাসে ৩৮ কন্যাশিশু নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার
স্টাফ রিপোর্টার: কন্যাশিশুর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিতে নানা মুখরোচক স্লোগান প্রচারিত হলেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন মিলছে খুব কমই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্র ও পরিবারের পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এখনও বিদ্যমান। এমন এক বাস্তবতায় ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হয়েছে বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস।
জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, কন্যাশিশুরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। রাজশাহী জেলায় গত ৯ মাসে অন্তত ৩৮ জন কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে ৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৩ জন গণধর্ষণ, ৩ জন ধর্ষণের চেষ্টা, ৪ জন যৌন নির্যাতন এবং ২ জন শিশু ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।
এছাড়া ৩ জনকে হত্যা ও ২ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে ৭ জন কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে, ৩ জন আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে, ৪ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং ২ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অকাল বিয়ে রোধ করে কন্যাশিশুরা যাতে শিক্ষা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে কন্যাশিশু ও তাদের অভিভাবকদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এখনও দেশের বহু এলাকায় ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেয়ার কুপ্রথা বিদ্যমান। বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেই অনেক অভিভাবক কম বয়সী মেয়েদের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রস্তুত করেন। এই জালিয়াতির পেছনে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। পরবর্তীতে এই ভুয়া সনদের ভিত্তিতেই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের হস্তক্ষেপে কোনো বাল্যবিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হলেও, পরবর্তীতে গোপনে সেই বিয়ের আয়োজন করেন অভিভাবকরা। বাল্যবিয়ে ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
এ বিষয়ে সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘লফস’-এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একইসঙ্গে যৌন ও প্রজনন শিক্ষাসহ মানসম্পন্ন শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। লিঙ্গবৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করে নারীদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যা তাদের মৌলিক অধিকার।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











