ঢাকা | অক্টোবর ২, ২০২৬ - ১২:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বৈশ্বিক মূল এজেন্ডায় রাজশাহীর জলবায়ু সংকট অন্তর্ভুক্তির দাবি

  • আপডেট: Thursday, October 1, 2026 - 10:25 pm

স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী খরা ও পানি সংকটকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-৩১) মূল এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাজশাহীতে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘খরা থেকে ন্যায়বিচারের পথে- বরেন্দ্র থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম’, ‘গ্রিন কোয়ালিশন’ এবং উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, পরিবেশকর্মী, আদিবাসী প্রতিনিধি, প্রান্তিক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা, অনাবৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং তাপদাহ কোনো বিচ্ছিন্ন স্থানীয় সমস্যা নয়; বরং এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব। নদী, খাল ও জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তাই এসব সংকট মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের জোর দাবি জানান তাঁরা।

ধর্মঘটে সভাপতির বক্তব্যে গ্রিন কোয়ালিশন বরেন্দ্র অঞ্চলের সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচুর পুকুর, নদী, খাল ও খাড়ি ছিল, যা কালের বিবর্তনে নষ্ট ফেলা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এ অঞ্চলের পানি সংকট দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পৃথক তহবিল গঠন করে এ সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী নৃবিজ্ঞানী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তব চিত্রে খরা ও কৃষকের জীবনসংকট স্পষ্ট। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচারের পাশাপাশি মানুষের পানি, খাদ্য ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অন্যদিকে রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া বলেন, প্রকৃতি কখনো কাউকে ছেড়ে দেয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ধনী দেশগুলো দায়ী হলেও এর মাশুল গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে। অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

সমাবেশে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের উদ্দেশ্যে মূল বার্তা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলকে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং পানি নিরাপত্তাকে প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোজনের জন্য ন্যায়সংগত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আতিকুর রহমান ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও জীবিকাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি ‘বরেন্দ্র জলবায়ু সহনশীলতা কাঠামো’ প্রণয়ন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ ও ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, নদী-খাল ও জলাভূমির দখল-দূষণ রোধ, জলবায়ু-সহনশীল ও পানি-সাশ্রয়ী কৃষিব্যবস্থার বিকাশ এবং স্থানীয় বীজের ওপর কৃষকের অধিকার সুরক্ষা।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস