ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ - ১১:২১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে নগরীতে গ্রাহকদের ক্ষোভ, বেচাকেনা স্বাভাবিক

  • আপডেট: Tuesday, September 22, 2026 - 10:25 pm

স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে রাজশাহী নগরীতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল কেনাবেচার চিত্র স্বাভাবিক রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, পূর্বের নিয়মেই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন যানবাহন চালকেরা। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও থ্রি-হুইলারসহ নানা ধরনের যানবাহনের ভিড় দেখা গেলেও বিক্রি বা সরবরাহে কোনো বিশৃঙ্খলা বা সংকট চোখে পড়েনি।

নগরীর গুলগোফুর পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নিচ্ছেন। তবে কেনাবেচা স্বাভাবিক থাকলেও তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ক্রেতারা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিত্যদিনের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ওপর। সেই সঙ্গে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে বলে গভীর উদ্বেগ জানান তারা।

তেল কিনতে আসা হানিফ মাহমুদ নামে এক বাইকার জানান, আয় না বাড়লেও তেলের দাম বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর সংসার চালানোর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। আরেক গ্রাহক জুনায়েদ সাকির মতে, তেলের বর্ধিত দর কেবল যানবাহনের জ্বালানি খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

পরিবহন ব্যয় বাড়লে সকল পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। পাম্প পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দর বাড়লেও বর্তমানে তেল ক্রয়ের সার্বিক চাহিদায় বড় ধরনের কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক নিয়মেই চালকেরা পাম্পে আসছেন।

গুলগোফুর পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী আব্দুল রাজ্জাক জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্ধিত মূল্যে বিক্রি চললেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, তা ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট।

অন্যদিকে, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সামনের ‘নয়ান পেট্রোলিয়াম পাম্প এজেন্সির’ বিক্রয়কর্মী সাফওয়ান জানান, দাম বাড়ায় অনেক গ্রাহক সাময়িকভাবে কেনাকাটার পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছেন—যেমন আগে যিনি পাঁচ লিটার কিনতেন, এখন তিনি হয়তো তিন লিটার নিচ্ছেন। এতে সামগ্রিক বিক্রি কিছুটা প্রভাবিত হলেও পাম্পের সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস