ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ - ১০:৪৭ অপরাহ্ন

পদ্মার ঢলে বিপর্যস্ত রাজশাহীর চরাঞ্চল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ

  • আপডেট: Thursday, September 10, 2026 - 10:12 pm

স্টাফ রিপোর্টার: উজানে গঙ্গার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার প্রভাব এবং পাহাড়ি ঢলে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে রাজশাহী মহানগরী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও পদ্মার চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গৃহপালিত গবাদিপশু, বসতবাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও ফসল নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড় ও চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। দুই জেলাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ ও গবাদিপশুর খাবারের সংকটে হাহাকার তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন থেকে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পদ্মার পানি টানা বাড়তে থাকায় রাজশাহী মহনগরী সংলগ্ন ও পবা উপজেলার চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চর খিদিরপুরের ‘মিডিল চরে’ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুই শতাধিক পরিবার। অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও বসতঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও বসবাস অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

গবাদিপশুর চরম খাদ্যাভাব এবং সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় চরের বাসিন্দারা শেষ সম্বল গরু-ছাগল, ধান, জ্বালানি ও মালামাল নিয়ে নৌকায় করে শহরের ঘাটে পাড়ি জমাচ্ছেন। শত শত গরু-ছাগল গাদাগাদি করে নৌকায় করে শহরের দিকে আনতে গিয়ে অনেকেই নৌকা ভাড়ার টাকা না থাকায় সীমাহীন অর্থসংকটে পড়েছেন। শুধু চর খিদিরপুরই নয়; চর খানপুর, মাঝারদিয়াড়, ১০ নম্বর চর ও চর আষাড়িয়াদহেও দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি রাজশাহী নগরের তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার রাজশাহী আলোর পাঠশালার মাঠও জলমগ্ন হয়ে গেছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, পদ্মার বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার হলেও বুধবার দুপুরে পানি বেড়ে ১৬.৮৫ মিটারে পৌঁছেছে। উজানের পানি আসতে থাকায় পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চরাঞ্চল থেকে আসা দুর্গত মানুষের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসার জন্য চরাঞ্চলসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। গবাদিপশু রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিপৎসীমার কাছাকাছি পদ্মা:

এদিকে উজান থেকে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত সাতদিন ধরে টানা বাড়ছে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি। বর্তমানে পদ্মা নদী বিপৎসীমার (২২.০৫ মিটার) মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে অর্থাৎ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানি প্রবেশের ফলে জেলার সদর ও শিবগঞ্জে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা) প্লাবিত হয়ে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় ১১ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতে ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে আজ পর্যন্ত পানি বাড়ার পর তা কমতে শুরু করবে এবং বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি আপাতত নেই।

উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে শিবগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের ২৫০টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। দ্রুতই প্লাবিত সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল-ডাল, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

সোনালী/ জগদীশ রবিদাস