নগরীতে জুয়েলার্সে দেওয়াল কেটে চুরি, গ্রেফতার ৮, স্বর্ণ ও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির ‘কারূশ্রী জুয়েলার্স’-এ দেওয়াল কেটে সিঁধেল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৭ সদস্য এবং চোরাই মাল ক্রয়কারী ১ স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃদের মধ্যে একজনকে খুলনা থেকে এবং বাকি ৭ জনকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আরএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আরএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের গত ১৯ জুন ভোরে ১০-১২ জনের একটি চোর চক্র সাহেববাজার এলাকার কারূশ্রী জুয়েলার্সের সামনে জড়ো হয়। তারা দোকানের সামনে ভ্রাম্যমাণ কেনাকাটার নাটক সাজিয়ে জটলা তৈরি করে এবং কৌশলে পাশের একটি দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে।
পরে কারূশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেওয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সিন্দুক ভেঙে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রূপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে চম্পট দেয়। এ ঘটনায় জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করেন। কমিশনারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট যৌথভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। অপরাধ সংঘটনে তারা একবারের বেশি একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। তাদের ব্যবহৃত সিমগুলো এমন সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত, যারা আসামিদের চেনেনও না এবং সিম নিবন্ধনের বিষয়টিও জানতেন না। অত্যন্ত দ্রুত স্থান পরিবর্তনকারী এই চক্রটি বছরে মাত্র ১ থেকে ২টি বড় ধরনের চুরি করে থাকে। প্রতিটি চুরির অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস আগে তারা ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার ছদ্মবেশে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল নির্ধারণ করত।
এ চুরির চার মাস আগেও তারা একইভাবে রাজশাহীতে এসে রেইক করে যায়। ডিবি পুলিশের টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানার মাধবপুরা গ্রামের স্বপন (৬২), উজ্জল (৩৭), রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকার আবু তালেব (৪৫), বাগেরহাটের শরণখোলার কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ইউনুসকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চোরাই মাল কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদপুরের কচুয়া থানার রফিজ উদ্দিনের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার হেফাজত থেকে চোরাই ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পর স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বর্তমানে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরএমপির মুখপাত্র আরও জানান, চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











