ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ - ১০:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম

  • আপডেট: Saturday, September 5, 2026 - 9:47 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাজারে গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহেও অধিকাংশ সবজির দাম রয়েছে স্থিতিশীল। তবে সবজির বাজার নাগালের মধ্যে থাকলেও নতুন করে বেড়েছে ডিম ও মুরগির দাম।

শনিবার সকালে নগরীর সাহেব বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া করলা ৩০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙা ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল প্রতি কেজি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে গাজর ও টমেটোর দাম। বাজারে গাজর ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলাপণ্যের মধ্যে আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম। বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৮ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ফাউমি ৩৩০ টাকা এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সবজির দাম বর্তমানে কিছুটা কম। তবে রাজশাহীতে গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সবজির দাম বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। মাস্টারপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা মতিয়ার রহমান বলেন, সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে, তবে বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া মুরগির দাম বাড়ার পাশাপাশি ডিমের দাম হালিতে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরেক ক্রেতা ফাতেমা বেগম বলেন, রাজশাহীতে এখন সবজির দাম বেশ কম হলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বাড়ছে। সবজি বিক্রেতা আলী আকবর জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি আসায় দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাজারে বেগুনের দাম কিছুটা চড়া। অন্য বিক্রেতা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, বরং কিছু পণ্যের দাম আগের চেয়ে কমেছে। কাঁচা মরিচের দামও এখন অনেক কম। বাজার এমন স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই ভালো।

এদিকে মাছের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০-২১০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২২০ টাকা, চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল ৬৫০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০-৯০০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০-১০০০ টাকা এবং দেশি শিং ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী স্টেশন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী হৃদয় আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। একই বাজারের ডিম ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন জানান, ডিমের দাম হালিতে ৪ থেকে ৬ টাকা এবং ডজনে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা হালি বিক্রি হওয়া সাদা ডিম আজ ৪৪-৪৫ টাকা এবং লাল ডিম ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ডিমের দামও বেড়েছে, যা খুচরা পর্যায়ে আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।