রাকসু জিএসের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে শিবিরের প্রশ্ন, ভাউচার প্রকাশের কথা জানালেন আম্মার
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ঘোষিত ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার দাপ্তরিক ব্যয়কে অবাস্তব দাবি করে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
তবে রাকসু জিএস বলেছেন, দায়িত্বের মেয়াদের নির্ধারিত সময় শেষে ভাউচার ও প্রমাণসহ সব হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, রাকসুর জিএস দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার হিসাব দিয়েছেন, তা বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আপ্যায়ন ও যাতায়াত খাতে এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়েছে এমন দাবিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামগ্রিক ব্যয়ের কথা বলে জিএস মূলত নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যমতে, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ, মিডিয়া ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, মহিলা বিষয়ক এবং সাহিত্য ও বিতর্ক এই ছয়টি দপ্তরে মোট প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বাইরে ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের ব্যয় যোগ করলেও তা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। ফলে জিএসের দেয়া সামগ্রিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুজাহিদ ফয়সাল।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি আরও স্পষ্ট করেন যে, সালাহউদ্দিন আম্মার তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত না হওয়ায় তার কর্মকাণ্ডের কোনো দায়ভার ছাত্রশিবির নেবে না, তবে তাদের প্যানেল থেকে বিজয়ী প্রতিনিধিদের কার্যক্রমের দায় সংগঠন বহন করবে।
অন্যদিকে শিবির সভাপতির এই অভিযোগের বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মুজাহিদ ফয়সাল রাকসুর কেউ নন, ফলে তিনি কোথা থেকে এসব তথ্য পেয়েছেন সেটি তাকেই জিজ্ঞাসা করা উচিত।
তিনি জানান, রাকসুর বিধান অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক সংসদের হিসাব পরিচালনা করেন এবং কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। সামগ্রিক হিসাব প্রকাশ প্রসঙ্গে জিএস আম্মার বলেন, তার দায়িত্বের মেয়াদের আরও প্রায় আড়াই মাস বাকি রয়েছে। তাই এখনই সম্পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময় শেষে সব তথ্য-প্রমাণ, নথি ও ভাউচার প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো হিসাব প্রকাশের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
উল্লেখ্য, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের এই সংবাদ সম্মেলনে আবাসন সমস্যার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, অনাবাসিক ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সিনেট কার্যকর করা এবং পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর আগে গত রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচের কথা জানিয়েছিলেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।











