ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ - ১০:৫২ অপরাহ্ন

পানি নামলেও চরাঞ্চলে টানা দুর্ভোগ, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট

  • আপডেট: Tuesday, September 15, 2026 - 9:55 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্লাবিত এলাকার হাজারো মানুষ। টানা কয়েকদিনের জলজটে পদ্মার দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও প্লাবিত হয়ে আছে। ফলে পানি সামান্য কমলেও পানিবন্দি মানুষদের সার্বিক পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী পয়েন্টে বর্তমানে পদ্মার পানি নিম্নমুখী। গত সোমবার সকালে পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিকেলে সামান্য কমে ১৭ দশমিক ২৭ মিটারে নামে। এরপর গতকাল মঙ্গলবার নদীটিতে পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২৫ মিটার রেকর্ড করা হয়। যদিও এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার, ফলে বর্তমান পানি বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি কমার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাউবোর মিটারগেজ রিডার এনামুল হক জানান, পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে ক্রমান্বয়ে কমছে। এ মুহূর্তে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি বা শঙ্কা নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক নজরদারি রাখছে এবং বাঁধের কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভেতরের সংকট ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। চরাঞ্চলের বাসাবাড়িতে এখনও পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চরখিদিরপুর ও খানপুরের পাশাপাশি তালাইমারী সংলগ্ন বাঁধের আশেপাশের নিচু এলাকাগুলোর বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট এখনও প্লাবিত। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট। একইসঙ্গে গবাদিপশু নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা।

তালাইমারী এলাকার ভুক্তভোগী অধিবাসী আরিফুর রহমান জানান, আগের দিনের তুলনায় নদীতে পানি সামান্য কমলেও তাঁদের ঘরবাড়ির ভেতরের চিত্র বদলায়নি। এখনও চারপাশ পানিতে ডুবে আছে এবং ঘরের গবাদিপশুগুলো লোকালয়ের উঁচু জায়গায় সরিয়ে রাখতে হয়েছে। পুরোপুরি পানি না নামা পর্যন্ত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলার কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।