ঢাকা | অগাস্ট ১৫, ২০২৬ - ১১:৩৮ অপরাহ্ন

বড়াল ঘাটে নৌকা এখন ইতিহাস

  • আপডেট: Saturday, August 15, 2026 - 10:45 pm

মোজাম্মেল হক, চারঘাট থেকে: এক সময় বড়াল নদীর ঘাট মানেই ছিল নৌকার সারি, মাঝির হাঁকডাক আর মানুষের কোলাহল। ভোরের আলো ফুটতেই ঘাটে ভিড়তো নৌকা। কেউ যেত বাজারে, কেউ কৃষিপণ্য নিয়ে পাড়ি দিত অন্য ঘাটে, আবার কেউবা নৌকায় চড়ে যেত আত্মীয়ের বাড়ি। বৈঠার ছলাৎছল শব্দে মুখর থাকত নদীর বুক। সেই দিনগুলো এখন শুধুই ইতিহাস।

রাজশাহীর চারঘাটের বড়াল নদীর ঘাটে দাঁড়ালে আজও চোখে পড়ে নদী, দেখা যায় ঘাট কিন্তু আগের মতো দেখা যায় না নৌকার সারি। শোনা যায় না মাঝির সেই চেনা ডাক। নদীর সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল, সময়ের স্রোতে তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও বড়াল নদী ছিল এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। নদীপথে চলাচল করত পালতোলা ও বৈঠার নৌকা।

কৃষকের ধান, পাট, সবজি কিংবা ব্যবসায়ীদের নানা পণ্য নৌকায় করে পৌঁছে যেত বিভিন্ন হাট-বাজারে। মানুষের পারাপারেও নৌকাই ছিল ভরসা। কিন্তু সময় বদলেছে। সড়ক যোগাযোগের বিস্তার, দ্রুতগতির যানবাহনের প্রসার এবং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌকার প্রয়োজনীয়তা কমতে শুরু করে। একে একে পেশা বদলেছেন অনেক মাঝি। কেউ হয়েছেন কৃষক, কেউ শ্রমিক, আবার কেউ পাড়ি দিয়েছেন অন্য পেশায়।

স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে বড়াল নদীর ঘাটে দিনের শুরুই হতো নৌকার শব্দে। ঘাটে দাঁড়ালে একের পর এক নৌকা দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য কেবল মনে পড়ে। সময়ের সাথে নৌকাগুলোও যেন হারিয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা বলেন, নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন ছিল না, এটি ছিল আমাদের জীবনের অংশ। নৌকায় চড়ে স্কুলে যাওয়া, বাজারে যাওয়া কিংবা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার স্মৃতি এখনও মনে পড়ে। সব মিলিয়ে, কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই নৌকাগুলো হয়তো আর আগের মতো ফিরবে না। কিন্তু বড়ালের ঘাটের বুকে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি এখনও জীবন্ত। নদী আছে, ঘাট আছে শুধু নেই সেই নৌকা আর নেই মাঝির সেই চেনা কণ্ঠস্বর।