ঢাকা | অগাস্ট ১১, ২০২৬ - ১:৪২ পূর্বাহ্ন

৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে তলানিতে রাজশাহী বোর্ডের এসএসসির ফল

  • আপডেট: Monday, August 10, 2026 - 11:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬,১১৩ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে বড় ধস।

সোমবার সকালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বিগত ৭ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ফলাফল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২০ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৭ বছরের ইতিহাসে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালো।

চলতি বছর রাজশাহী বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১,৭৮,৯৬২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১,৭৬,০৮৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২,৯০৮ জন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বহিষ্কৃত হন ১০ জন। মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১,১২,০৮৬ জন; যেখানে গত বছর পাস করেছিলেন ১,৩৯,৯৬৩ জন। এ বছর বোর্ডে ২৯৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ২,১৭৩টি স্কুলের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও ধস:

মেধাবী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২৬ সালে বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোটে ১৬,১১৩ জন শিক্ষার্থী (যার মধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শুরুতে ১৬,০৪৭ জনের তথ্য উল্লেখ থাকলেও বিস্তারিত তালিকায় ১৬,১১৩ জন দেখানো হয়)। এর আগের বছরগুলোতে এই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি ২০২৫ সালে ২২,৩২৭ জন, ২০২৪ সালে ২৬,০৯৮ জন এবং ২০২৩ সালে ২৬,৭৯৯ জন। চলতি বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রী ৮,৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭,১২২ জন।

পাস ও জিপিএ-৫ উভয় সূচকে এগিয়ে ছাত্রীরা:

সার্বিক পাসের হারে ছাত্ররা পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ এবং পাসের হার উভয় ক্ষেত্রে ছাত্রীরা এবারও তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। চলতি বছর উপস্থিত মোট ৮৩,২৭৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৭০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, উপস্থিত ৯২,৭৭৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

রাজশাহীর ৫ স্কুলে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী:

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। সার্বিক পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও ৫টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর পেছনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, পরিবেশ ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি শুধু দায় না চাপিয়ে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

রাজশাহী বোর্ডে সাফল্যের শীর্ষে বগুড়া:

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয় সূচকেই শীর্ষে রয়েছে বগুড়া জেলা। বগুড়ায় ২৩,৩৮৯ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার পাসের হার ৭২.৬৪% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪,৪৭৮ জন। পাসের হারে ৬৭.৫৩% নিয়ে দ্বিতীয় জয়পুরহাট এবং ৬৫.১৩% নিয়ে তৃতীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এরপর রয়েছে নওগাঁ (৬২.৪৯%), রাজশাহী (৬২.২৮%), নাটোর (৬১.২৫%), পাবনা (৬০.৭৬%) এবং সর্বনিম্ন সিরাজগঞ্জ (৫৮.৬৪%)। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহীর (২,৯৪৯ জন) চেয়ে ১,৫২৯ জন বেশি পেয়ে বগুড়া নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।

কম নম্বর দেয়ার অভিযোগে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক:

এসএসসি পরীক্ষায় ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে ভুলবশত অর্ধেক (২৫) নম্বর দেয়ায় রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফল প্রকাশের পর গতকাল সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফরকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিকেলে তারা শিক্ষা বোর্ডে গিয়েও অবস্থান নেন। অবশেষে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং সব পরীক্ষার্থীর ফলাফল সংশোধন করে পূর্ণ ৫০ নম্বর দেয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুর রউফ জানান, সফটওয়্যার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুততম সময়ে সংশোধিত নম্বর কার্যকর করা হবে। কেন্দ্র সচিব জানান, ভুল সংশোধনে আগেই চিঠি দেয়া হয়েছিল এবং এই পরিবর্তনের ফলে জিপিএতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস