ঢাকা | অগাস্ট ১৩, ২০২৬ - ১০:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পবায় জমির বিরোধ মিটলো না গ্রাম আদালতে

  • আপডেট: Thursday, August 13, 2026 - 9:59 pm

স্টাফ রিপোর্টার: নিজের জমি, অথচ সেই জমিতেই যেন পরবাসী মালিকেরা। দলিল-খতিয়ানে মালিকানার প্রমাণ থাকলেও ২৬ শতক জমির সীমানায় পা রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ।

বিরোধ মেটাতে গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শুনানিতে বিবাদীপক্ষের একজন প্রকাশ্যে আদালতের সিদ্ধান্ত না মানার কথা বলায় ন্যায়বিচারের আশায় এখন উচ্চতর আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন জমির মালিকেরা।

পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় এ বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের নথি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

আদালতের ১০২ নম্বর মামলার নথি অনুযায়ী, বিরোধের জমিটি গোপালপুর ৪১ নম্বর মৌজার ১৭৮২ নম্বর দাগে। জমির পরিমাণ ০.২৬ একর বা ২৬ শতক। এর এসএ খতিয়ান নম্বর ৩৫১, আরএস খতিয়ান ২০৭ এবং প্রস্তাবিত খতিয়ান ৮১২৬।

ইউনিয়ন পরিষদের নথি অনুযায়ী, সোনাইকান্দি গ্রামের মৃত এ কে এম সিকান্দারের ছেলে এস এম সেলিমসহ তাঁর স্বজনেরা ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। তাঁদের পক্ষে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের তিনটি বণ্টননামা এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালের চারটি সাব-কবলা দলিল রয়েছে। তাঁদের নামে প্রস্তাবিত খতিয়ানও রয়েছে।

মালিকপক্ষের অভিযোগ, আলিমগঞ্জ গ্রামের ইসমাইল হোসেন, নাইম হোসেন, আব্দুল হক টুনু, নারগিস বেগম, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ রানা ও সাইদুল ইসলাম ওই জমিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন। মানবিক কারণে সাইদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হলেও পরে অন্যরাও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মালিকপক্ষকে জমিতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রাম আদালতের তদন্তে বিবাদীপক্ষের দাখিল করা কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলিলের দাতা মৃত সিরাজুল ইসলাম অন্য ওয়ারিশদের সঙ্গে বণ্টন না করেই জমি বিক্রি করেছেন। তদন্তে তাঁর প্রাপ্য অংশ এক শতকেরও কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ পুরো ২৬ শতক জমিতে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের। গত ১৯ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদে সালিশি বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। নথি অনুযায়ী, বিবাদীপক্ষের ছয়জনের মধ্যে তিনজন অনুপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আব্দুল হক টুনু গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে জানান।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান রাসেল বলেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিরোধটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিবাদীপক্ষ সিদ্ধান্ত না মানায় স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব হয়নি। মালিকপক্ষকে প্রচলিত আইনে উচ্চতর আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।”

এস এম সেলিম বলেন, “আমাদের কাছে দলিল-খতিয়ান সবই আছে। গ্রাম আদালতে সুবিচার না পেলে আইনের মাধ্যমে প্রতিকারের জন্য উচ্চতর আদালতে যাব।”