ঢাকা | অগাস্ট ৮, ২০২৬ - ৪:১০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চারঘাটে খাল পুনঃখনন: অব্যয়িত ২৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

  • আপডেট: Friday, August 7, 2026 - 10:02 pm

চারঘাট প্রতিনিধি: চারঘাট উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ করা ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার মধ্যে অব্যয়িত ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন শেষে নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী এ অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারঘাট উপজেলার একমাত্র খাল পুন:খননের জন্য প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলার ঝাউবোনা থেকে বড়াল নদ হয়ে নিমপাড়ার মুসা খাঁ নদী পর্যন্ত খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পে যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় ৬৫৪ জন অতিদরিদ্র মানুষকে কাজের সুযোগ দেয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে খাল পুনঃখননের সুফল সবচেয়ে বেশি পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। পুনঃখননের ফলে খালে পানি জমা ও পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় পাট জাগ দেয়ার জন্য কৃষকদের দূরের জলাশয়ে যেতে হচ্ছে না। স্থানীয় খালেই সহজে পাট জাগ দিতে পারছেন তারা। নিমপাড়া ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক আতাবর রহমান বলেন, খালটি আগে অনেকটাই ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এখন পুনঃখননের পর বর্ষার পানি ধরে রাখছে। পাট জাগ দেয়া, পানি নিষ্কাশন দুই ক্ষেত্রেই মানুষ উপকার পাচ্ছে।

নিমপাড়া ইউনিয়নের স্থানীয় শ্রমিক ফজলুল হক বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ। সব সময় কাজ পাওয়া যায় না। এই প্রকল্পে কাজ পেয়ে পরিবারের খরচ চালাতে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। পাশাপাশি খালটাও পরিষ্কার ও গভীর হয়েছে। আমাদের কাজের মূল্যও সঠিক ভাবে পেয়েছি। নিমপাড়া ইউনিয়নের খরেড়বাড়ী গ্রামের নারী শ্রমিক নাসরিন বেগম বলেন, এই প্রকল্পে কাজের সুযোগ পাওয়ায় নিজের হাতে কিছু টাকা আয় করতে পেরেছি। আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি খুব দরকার।

এ বিষয়ে নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। এতে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। পুনঃখনন করা খালগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ হিসাব করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-কানুন ও নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।