ঢাকা | অগাস্ট ৪, ২০২৬ - ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই ইসির কাছে

  • আপডেট: Monday, August 3, 2026 - 10:31 pm

সোনালী ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।

নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসি সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় এ সময়সীমা পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু করা সম্ভব কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর বা ডিসেম্বরের কথা শোনা গেলেও সুস্পষ্ট তথ্য না থাকায় এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সাধারণত একটি নির্বাচন আয়োজনে তফসিল থেকে ভোটের তারিখ পর্যন্ত ৪৫ দিন এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও মুদ্রণে দেড় মাস মিলিয়ে মোট প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতিমূলক সময় প্রয়োজন হয়।

তবে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও কমিশনের নিজস্ব প্রস্তুতি চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন ও বিধিমালা, নির্বাচনি সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ-এ তিনটি ক্ষেত্রে কোনো ধীরগতি নেই। ইতিমধ্যে আচরণবিধি প্রস্তুত করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে এবং টিওটি (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসি। এতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্টকরণ, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশে অবস্থানরত অন্য নির্বাচন কমিশনাররা ফিরলে এই সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট আইন নিয়ন্ত্রণকারী ‘স্থানীয় সরকার বিভাগে’ পাঠানো হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন কোনো সংলাপের সিদ্ধান্ত আপাতত নেই জানিয়ে সচিব বলেন, পূর্বে নেয়া মতামতের বাইরে বাড়তি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব নির্বাচনসংক্রান্ত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং তালিকাটি হাতে পাওয়ার পরই এ নির্বাচনের তফসিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এনআইডি সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিদ্যমান অসংগতি দূর করতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও কাজের নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা এসওপি তৈরির প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে সচিব বলেন, দেশের ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৮টি দল বিগত পঞ্জিকা বছরের অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বাকি দলগুলোর মধ্যে ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং একটি দলের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দেওয়া বাকি ৮টি দলকে আইন অনুযায়ী নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।