ঢাকা | অগাস্ট ৩, ২০২৬ - ১১:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত

  • আপডেট: Monday, August 3, 2026 - 10:15 pm

স্টাফ রিপোর্টার: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশের সহযোগিতায় রাজশাহীতে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংলাপ, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নগরীর একটি হোটেলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ ২৭ জন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন ও হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম রাজশাহীর আহ্বায়ক রাশেদ রিপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির। সংলাপে লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান।

সংলাপে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন ‘মানবাধিকারের মৌলিক নীতি: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন। তিনি মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিধি এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও তা অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধেও মানবাধিকারসম্মত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে তিনি রাবাত প্ল্যান অব একশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল পরিসরে নিরাপত্তা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংলাপের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় সমাজকর্মী হাসিনুল ইসলাম চুন্নু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম. কে. নোমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ নাসের, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাথিং মার্মা, দিনের আলো হিজড়া উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি মোহনা, আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল রাজওয়ার, নারী নেত্রী আলিমা খাতুন লিমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঞ্জনা সরকার, আদিবাসী নেত্রী সাবিত্রী হেমব্রম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্য রাখেন।