ঢাকা | জুলাই ১৯, ২০২৬ - ৩:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, July 18, 2026 - 10:29 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এক নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও ব্যবসায়িক লাইন জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই সাথে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের জড়িয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মূল ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফাইমা খাতুন জানান, ২০১০ সাল থেকে তাঁর স্বামী বিভিন্ন এলাকায় সরকারি লাইসেন্স ও ট্যাক্স দিয়ে ডিশ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২১ সালে রাজনৈতিক আক্রোশের জেরে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার হামলায় তাঁর স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারালে তিনি একাই ব্যবসার হাল ধরেন। লিখিত অভিযোগে ফাইমা খাতুন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গোয়ালকান্দি এলাকার যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম তাদের ডিশ ব্যবসাটি জোরপূর্বক দখল করে নেন। এ বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ইউএনও ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাননি। সর্বশেষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য আসাদুল ইসলাম তাঁকে ডেকে পাঠালে, নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি স্থানীয় তিন ছাত্রদল নেতাকে সাথে নিয়ে সেখানে যান।

ফাইমা খাতুনের অভিযোগ, আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আসাদুল নিজের অপরাধ ঢাকতে মিথ্যা নাটক সাজান এবং গণমাধ্যমে ভাঙচুর ও লুটপাটের কাল্পনিক খবর প্রচার করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জানান, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত এক অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোয় এবং ব্যবসা দখলের মূল ঘটনাটি আড়াল করতেই ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বিধায় বিষয়টি সম্পর্কে এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।