ঢাকা | অগাস্ট ৮, ২০২৬ - ১১:৪৭ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বিদ্যুতের আলো ফুটছে চর আষাড়িয়াদহে

  • আপডেট: Saturday, August 8, 2026 - 10:26 pm

স্টাফ রিপোর্টার: স্বাধীনতার অর্ধশতকেরও বেশি সময় পার হলেও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পদ্মা তীরের চর আষাড়িয়াদহে এতদিন পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো।

প্রায় ৬০ হাজার মানুষের রাতের সঙ্গী ছিল কেবল কুপি, মোমবাতি, সৌরবিদুৎ কিংবা হারিকেন। তবে সেই দীর্ঘদিনের অমাবস্যার আঁধার কাটতে চলেছে। অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে যাচ্ছেন এই দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

শনিবার বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দীন শিগগিরই এই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের ঘোষণা দেন। বিদ্যুৎ, নদীভাঙন রক্ষা ও রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে নেসকো চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দীন নেসকো ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে কানাপাড়াসহ চর আষাড়িয়াদহের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ কোন উপায়ে দ্রুত ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রদান করা সম্ভব, সে বিষয়ে তিনি চরের সাধারণ মানুষের মতামত নেন।

পাশাপাশি পদ্মা নদীর মারাত্মক ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দীন বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে এসেও বিশাল একটি জনসংখ্যার বিদ্যুৎ সুবিধা না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। চরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণে নেসকো দ্রুততম সময়ে এই দুর্গম চরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে শহরে বিদ্যুতের আলো জ্বললেও এতদিন চরের মানুষকে অন্ধকারেই বাস করতে হতো। দিনের আলোতেই তাদের সারে নিতে হতো যাবতীয় কাজ। ২০১৫ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা সীমিত পরিসরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করলেও লোকসানের কারণে ২০২৪ সালের জুনে তা বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকার শিশু শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও রোগীরা। নেসকো চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগ ও সরেজমিন পরিদর্শনে চরবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র উচ্ছ্বাস ও নতুন আশা।

চরবাসীর প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ পাওয়ার মধ্য দিয়ে যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতসহ চরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পরিবর্তনের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে এবং অন্যান্য বৈষম্য দূর করতেও কর্তৃপক্ষ দ্রুত সদয় দৃষ্টি দেবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান, এলজিইডির প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ বেহেশতী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম এবং মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকুগসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস